আমেরিকার ভার্জিনিয়ায় উদযাপিত হলো চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবান ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

কমিউনিটি নিউজ ২৭ আগস্ট ২০২৬ ২৮৮৭

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় বাংলাদেশি-আমেরিকান আইটি পিপলস অর্গানাইজেশনের উদ্যোগে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবান ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী নকীব খানসহ দেশ-বিদেশের বহু অতিথি অংশ নেন।

আমেরিকার ভার্জিনিয়ায় উদযাপিত হলো চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবান ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের ফোর্ট হান্ট পার্কে ২৩ আগস্ট রোববার দিনব্যাপী চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবান ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশি-আমেরিকান আইটি পিপলস অর্গানাইজেশন (বাইটপো) এই উৎসবের আয়োজন করে। জলবায়ু বিষয়ক বৈশ্বিক কর্মী ও সিপিএ রায়হানুল ইসলাম চৌধুরী প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই লোকজ উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে যুক্ত ছিলেন মার্কিন সিনেটর সাদ্দাম আজলান সেলিম, ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির সভাপতি ড. হাসান কারাবার্ক এবং মন মাউথ ইউনিভার্সিটির সামাজিক কর্ম বিদ্যাংশের ডিন ও ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব সোশ্যাল ওয়ার্কসের সহ-সভাপতি ড. গোলাম এম. মাতব্বর। এছাড়া কাইফ ফাউন্ডেশনের প্রধান ড. ফাইজুল ইসলাম এবং অনলাইন শিক্ষার অগ্রদূত অধ্যাপক ড. বদরুল হুদা খানও অতিথি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের প্রধান আকর্ষণ ছিলেন বাংলাদেশের প্রখ্যাত সংগীত তারকা নকীব খান, যিনি প্রথমবারের মতো গান পরিবেশনের উদ্দেশ্যে ওয়াশিংটন ডিসিতে আগমন করেন। প্রখ্যাত এই শিল্পীর সাথে মঞ্চে সংগীত পরিবেশন করেন প্রতিশ্রুতিশীল গায়ক প্রতীক হাসান। অধ্যাপক ড. বদরুল হুদা খানের রচিত সংগীতালেখ্য ‘চল মেজ্জানে’ পরিবেশনার মাধ্যমে বাইটপোর শিল্পীরা সাংস্কৃতিক পর্বের সূচনা করেন। পরবর্তীতে মাহবুব হোসেন অরুণ, আদিল রহমান, শোয়েব রহমান, ডেভিড গোরস্কি ও সীমা খান একক গান পরিবেশন করেন। সুদীতি সরকার ও অদিতি সরকারের নৃত্য এবং সারা, দিশা ও স্মিতা দম্পতির ফ্যাশন শো অনুষ্ঠানে ভিন্ন মাত্রা যোগ করে। পুরো সাংস্কৃতিক আয়োজনটি পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন কচি খান।

উৎসবটি সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে দীন খালেদ, শরীফ আহমেদ, তানভীর আজিজ, স্বপন ইসলাম, সাইফুল ইসলাম, প্রকৌশলী জাহানারা ভূঁইয়া, কাজী আক্তার বাঁধন, মো. কাজল, সারা গোরস্কি, মিষ্টি সরকার, শুভ্র সরকার, খুরশীদ সাব্বির, কচি খান, মোহাম্মদ নাইম উদ্দীন অভি, সাইফুল্লাহ খালেদ, এম. এ. করিম, মোহাম্মদ মোল্লা, মামুন মোতালিব, মো. হাসান, কামাল, মোহাম্মদ হোসেন, মোহাম্মদ মিয়া সারওয়ার, আবদুল কোরেশী, হারুনুর রশীদ, শফিক মোল্লাহ এবং স্যাম রিয়া সর্বাত্মক সহায়তা প্রদান করেন। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শেষে একটি র্যাফেল ড্রর আয়োজন করা হয়, যেখানে বিজয়ী তিনজনকে হীরার আংটি, টেলিভিশন ও ল্যাপটপ উপহার দেওয়া হয়।

আয়োজক সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মেজবান কেবল রন্ধনশৈলীর প্রদর্শন নয়, বরং এটি চট্টগ্রামের শতাব্দীপ্রাচীন সামাজিক সংহতি ও সংস্কৃতির এক অনন্য মাধ্যম। প্রবাসের পরিবেশে এমন উদ্যোগ বিদেশের মাটিতে দেশীয় ঐতিহ্যের প্রসার ঘটায় এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যকার সামাজিক বন্ধনকে সুদৃঢ় করে। পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের প্রবাসীদের মধ্যে বাংলা ভাষা ও লোকসংস্কৃতির প্রতি অনুরাগ সৃষ্টি করাও এই উৎসবের মূল উদ্দেশ্য ছিল।

আপনার প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য বিজ্ঞাপন দিন