এলএনজি ক্রয়ে বাংলাদেশকে আরও ৩৫০ মিলিয়ন ডলার গ্যারান্টি দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক
দেশে গ্যাসের ঘাটতি মিটিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্প কারখানা চালু রাখতে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির জন্য বাংলাদেশকে আরও ৩৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ গ্যারান্টি দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক।
বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সার্বিক জ্বালানি সংকট সামাল দিতে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি কেনার লক্ষ্যে বাংলাদেশকে অতিরিক্ত ৩৫০ মিলিয়ন ডলারের ঋণ জামানত বা গ্যারান্টি দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক। রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান পেট্রোবাংলা যেন বিশ্ববাজার থেকে সহজে এলএনজি সংগ্রহ করতে পারে, সে উদ্দেশ্যেই এই সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। আগামী নভেম্বরের মধ্যে এই গ্যারান্টি সুবিধা চালুর সম্ভাবনা রয়েছে।
বর্তমানে দেশের অভ্যন্তরে গ্যাসের উত্তোলন কমে যাওয়ায় চাহিদা পূরণে আমদানিকৃত এলএনজির ওপর নির্ভরতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতা এবং বৈশ্বিক বাজারের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির দরুন এই প্রক্রিয়ায় নানা অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে বিশ্বব্যাংকের এ ঋণ জামানত বাংলাদেশ সরকারকে অর্থায়নের পথ সহজ করবে। উল্লেখ্য, চলতি বছরের মে মাসেও সংস্থাটি এলএনজি ক্রয়ের জন্য সমপরিমাণ অর্থ অনুমোদন করেছিল।
অর্থায়ন সহজ হলেও জ্বালানি খাতে বাড়তি দাম চিন্তার বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আগামী সেপ্টেম্বরে সরবরাহের জন্য দুটি এলএনজি কার্গো প্রতি এমএমবিটিইউ ২৪ ডলারের বেশি মূল্যে কিনতে রাজি হয়েছে বাংলাদেশ, যা সংঘাত শুরুর আগের স্বাভাবিক দামের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। উচ্চমূল্যের এই আমদানির ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যয় বৃদ্ধি পেয়ে শেষ পর্যন্ত বিদ্যুৎ খাত, শিল্প খাত এবং সরকারের ভর্তুকির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে প্রয়োজনীয় এলএনজি সরবরাহ করা গেলে দেশে লোডশেডিং কমার পাশাপাশি কলকারখানায় বিদ্যুৎ প্রবাহ স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হবে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের জন্য আমদানির নির্ভরতা হ্রাস করে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান, নবায়নযোগ্য শক্তির বিস্তার এবং জ্বালানি ব্যবহারের দক্ষতা বাড়ানো আবশ্যক।
