গাজীপুরে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের নিয়ে শামছুন্নাহার কবিরের অনুকরণীয় উদ্যোগ

সম্পাদকীয় ৮ আগস্ট ২০২৬ ৪৭০০

নিজের সন্তানকে ভর্তি করাতে না পেরে ২০১৪ সালে কালিয়াকৈরে পাঁচ শিশু নিয়ে যাত্রা শুরু করেন শামছুন্নাহার কবির। বর্তমানে ৮০ জন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীকে বিনামূল্যে সেবা দিচ্ছে তাঁর বিদ্যালয়টি।

গাজীপুরে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের নিয়ে শামছুন্নাহার কবিরের অনুকরণীয় উদ্যোগ

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য যথাযথ শিক্ষা ও অবকাঠামোর অভাবে বহু শিশু প্রাতিষ্ঠানিক সুযোগ থেকে বঞ্চিত থাকে। এই প্রতিকূল পরিস্থিতির ভেতরে গাজীপুরের কালিয়াকৈরে দৃষ্টি কেড়েছে ‘মাহমুদা আদর্শ প্রতিবন্ধী স্কুল’। বুদ্ধিবৃত্তিক প্রতিবন্ধকতায় আক্রান্ত নিজের সন্তানকে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যুক্ত করতে না পেরে শামছুন্নাহার কবির ২০১৪ সালে একটি ভাড়া করা ঘরে পাঁচজন ছাত্র-ছাত্রী নিয়ে এই পথচলা শুরু করেছিলেন।

বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি নিজস্ব জমিতে স্থানান্তরিত হয়েছে এবং ২০২২ সালে সমাজসেবা অধিদপ্তরের স্বীকৃতি অর্জন করেছে। পাঁচজন শিক্ষকের পরিচর্যায় এখানে এখন ৮০ জন শিশু নিখরচায় শিক্ষা, চিকিৎসাসেবা ও পুনর্বাসনের সুবিধা পাচ্ছে। প্রাতিষ্ঠানিক পড়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের শেখানো হচ্ছে কম্পিউটার পরিচালনা, হস্তশিল্প, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক বিভিন্ন বিষয়। ইতোমধ্যেই ২০ জন শিক্ষার্থীকে তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী বিভিন্ন কর্মসংস্থানে যুক্ত করা সম্ভব হয়েছে।

উপজেলা পর্যায়ে বিশেষায়িত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অপ্রতুলতার দরুন ব্যক্তিগত উদ্যোগেই পরিবারগুলো ভরসা খুঁজে নিচ্ছে। উক্ত বিদ্যালয়টিতে সরকারি ভাতা, বই সরবরাহ ও তদারকি থাকলেও একে টেকসই করতে আধুনিক থেরাপির সরঞ্জাম, মাল্টিমিডিয়া ক্লাস এবং অভিজ্ঞ শিক্ষকের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। সমাজের মূলধারায় এসব শিশুদের অন্তর্ভুক্তি কেবল সহানুভূতি নয়, বরং তাদের সাংবিধানিক অধিকার। তৃণমূল পর্যায়ে শিক্ষার আলো পৌঁছাতে কালিয়াকৈরের এই কার্যক্রম দৃষ্টান্ত হতে পারে।

আপনার প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য বিজ্ঞাপন দিন