দেশের ১৯টি মূল অর্থনৈতিক সূচকে অবনতি, ঘুরে দাঁড়ানো ধীরগতির

কমিউনিটি নিউজ ২৮ আগস্ট ২০২৬ ৪৭০০

সরকারের প্রথম ছয় মাসের পর্যালোচনায় বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সিপিডি জানিয়েছে, ৩১টি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সূচকের মধ্যে ১৯টিতেই পরিস্থিতি খারাপ হয়েছে। এর ফলে কাঙ্ক্ষিত গতিতে অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে পারছে না।

দেশের ১৯টি মূল অর্থনৈতিক সূচকে অবনতি, ঘুরে দাঁড়ানো ধীরগতির

বর্তমান সরকারের প্রথম ছয় মাসের সার্বিক পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করে বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) জানিয়েছে, অর্থনীতির প্রধান ৩১টি নির্দেশকের মধ্যে ১৯টিরই অবস্থা আশঙ্কাজনক। বিপরীতে কিছুটা উন্নতি লক্ষ্য করা গেছে বাকি ১২টি ক্ষেত্রে। সংস্থাটির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক কাঠামো এখনো বেশ ভঙ্গুর এবং উত্তরণের প্রক্রিয়াটি অনুমিত সময়ের চেয়ে দীর্ঘ হতে পারে।

এ প্রসঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির সম্মাননীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য অভিমত প্রকাশ করেন যে, নতুন প্রশাসন দায়িত্ব নেওয়ার পর এক থেকে দুই বছরের মধ্যে স্থিতিশীলতা ফেরার আশা করা হলেও মূলগত দুর্বলতার কারণে সময় আরও বেশি লাগবে। নেতিবাচক ধারাগুলো কেবল সাময়িক কোনো সমস্যা নয়, বরং গভীর কাঠামোগত সংকটের প্রতিফলন।

সিপিডির বিশদ মূল্যায়নে রাজস্ব আহরণ, বৈদেশিক লেনদেনের সমতা, সরকারের ব্যাংকিং খাত থেকে ঋণগ্রহণ, প্রবাসীদের পাঠানো আয়ের প্রবৃদ্ধি ও বিদেশে জনশক্তি রপ্তানির মতো ক্ষেত্রগুলোতে নেতিবাচক ধারা চিহ্নিত হয়েছে। অন্যদিকে রপ্তানি আয়ের বৃদ্ধি, খাদ্য মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বার্ষিক উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং বৈদেশিক মুদ্রা সঞ্চয়ের (রিজার্ভ) স্থিতিতে কিছুটা ইতিবাচক অগ্রগতি দেখা গেছে।

উৎপাদন ও শিল্পখাতে সংকটের প্রভাব অত্যন্ত স্পষ্ট। পর্যালোচনা অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত গাজীপুর, সাভার-আশুলিয়া এবং নারায়ণগঞ্জ-নরসিংদী এলাকায় মোট ৯৫টি কলকারখানা চিরতরে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এতে কর্মসংস্থান হারিয়েছেন অন্তত ৬১ হাজার ৮৮১ জন পোশাক ও শিল্প শ্রমিক। বিদ্যুৎ ও গ্যাসের তীব্র ঘাটতির কারণে বস্ত্র, সিরামিক, ইস্পাত, কাগজ এবং পার্টিকেলবোর্ডের মতো জ্বালানি-নির্ভর কারখানাগুলো উৎপাদনে মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

অর্থবছরের রাজস্ব পরিস্থিতি সম্পর্কে সিপিডি পূর্বাভাস দিয়েছে, ২০২৬-২৭ মেয়াদে আনুমানিক ১ লাখ ৩০ হাজার থেকে ১ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব ঘাটতি তৈরি হতে পারে, যা সরকারি ব্যয়ের খাতকে আরও চাপে ফেলবে।

পরিস্থিতি উত্তরণে সিপিডি অর্থ খাত, রাজস্বব্যবস্থা, জ্বালানি, পরিকাঠামো ও ডিজিটাল ব্যবস্থার সমন্বিত সংস্কারের তাগিদ দিয়েছে। এছাড়া দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য অক্টোবর ২০২৬ থেকে জুন ২০২৭ সময়সীমার জন্য তথ্যভিত্তিক স্বল্পমেয়াদি ‘কোর বাজেট’ প্রণয়ন এবং জ্বালানি নিরাপত্তা ও ব্যাংক ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের পরামর্শ দেন।

আপনার প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য বিজ্ঞাপন দিন