নিউইয়র্কে আইসের ঝটিকা অভিযানে অনথিভুক্ত অভিবাসীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক
মার্কিন অভিবাসন সংস্থা আইসের হঠাৎ ধরপাকড় ও কড়া নজরদারির কারণে নিউইয়র্কের অনথিভুক্ত অভিবাসীদের মাঝে প্রবল ভীতি ছড়িয়ে পড়েছে। গ্রেপ্তার এড়াতে অনেক অধিবাসী কাজ ও চিকিৎসাসেবা এড়িয়ে চলছেন।

নিউইয়র্কজুড়ে সম্প্রতি মার্কিন অভিবাসন সংস্থা আইসের আকস্মিক তল্লাশি ও অভিযান আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে কুইন্স, ব্রুকলিন, ব্রঙ্কস, ম্যানহাটন ও লং আইল্যান্ডে বসবাসকারী অনথিভুক্ত বাসিন্দাদের মধ্যে গ্রেপ্তার হওয়ার ভয় ছড়িয়ে পড়েছে। হঠাৎ আটকে পড়ার আশঙ্কায় অনেকে কর্মস্থলে যাওয়া বন্ধ রেখেছেন এবং নিজেদের স্বাভাবিক যাতায়াত সংকুচিত করে এনেছেন।
গত ২৭ জুলাই থেকে শহরটিতে আইসের উপস্থিতি বৃদ্ধির তথ্য প্রচার হতে থাকে। কোনো একটি বিশেষ লক্ষ্যবস্তুকে খুঁজতে গিয়ে আশপাশে থাকা অন্য অনথিভুক্ত মানুষদেরও আটক করার ঘটনা বাড়ছে। লং আইল্যান্ডসহ অন্যান্য এলাকায় পরিচালিত অভিযানে দেখা গেছে, গাড়ি চালানো বা পার্কিংয়ে থাকা অবস্থায় লাইসেন্স প্লেট দেখে ধরপাকড় চালানো অন্যতম কৌশল হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত নথিভুক্ত পথ-গ্রেপ্তারের ৯৩ শতাংশেই লাতিনো জনগোষ্ঠী ভুক্তভোগী হয়েছেন।
গত ৩০ জুলাই ম্যানহাটনের ইনউডে অভিযানের সময় ভিডিও ধারণ করায় লিন্ডা উলফ নামে এক নারীর মুখে এক মুখোশধারী এজেন্ট কেমিক্যাল স্প্রে করেন। ওই নারী জানান, নিরাপদ দূরত্বে দাঁড়িয়ে ভিডিও করা সত্ত্বেও তাকে আক্রমণ করা হয়। অন্যদিকে ২০ জুলাই ২৬ ফেডারেল প্লাজায় অ্যান্ড্রু আরাবাকা নামের ৪৩ বছর বয়সী এক সাবেক সেনা কর্মকর্তা অগ্নিসংযোগ ও হামলা চালিয়ে তিনজনকে আহত করার ঘটনা ঘটান, যার সঙ্গে আইসবিরোধী বার্তা ছিল। এসব সংঘাতের পর কমিউনিটির মানুষের মাঝে উদ্বেগ আরো চরম রূপ নেয়।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি স্যাংচুয়ারি সুরক্ষায় ১৩ নম্বর নির্বাহী আদেশ জারি করেছেন। মেয়রের নির্দেশনা অনুযায়ী, আদালতের বিচারকের স্বাক্ষরিত পরোয়ানা ব্যতীত সিটি পুলিশ, হাসপাতাল বা স্কুল কর্তৃপক্ষ অভিবাসন সংস্থাটিকে কোনো সহায়তা দিতে পারবে না। স্টেট অ্যাটর্নি জেনারেলের নীতিতেও বলা হয়েছে, শুধু আইসের প্রশাসনিক পরোয়ানা নিয়ে কারও ঘরবাড়ি বা কর্মস্থলের ব্যক্তিগত জায়গায় অনুপ্রবেশ করা বেআইনি।
