পার্টসের আড়ালে আনা ৪টি বিলাসবহুল গাড়ি মোংলা বন্দরে জব্দ
মোংলা বন্দরে পুরোনো যন্ত্রাংশ ঘোষণার আড়ালে আনা প্রায় পৌনে সাত কোটি টাকা মূল্যের ৪টি আস্ত বিলাসবহুল গাড়ি জব্দ করেছে কাস্টমস। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় এ জালিয়াতি উন্মোচিত হয়।
মোংলা বন্দর দিয়ে পুরোনো যন্ত্রাংশ আমদানির তথ্য দিয়ে আনা চারটি দামী গাড়ি আটক করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। ঢাকার গেন্ডারিয়ার প্রতিষ্ঠান ‘ক্রাউন অটোমোবাইল সার্ভিসেস’ এসব পণ্য চালানের আমদানিকারক। কাগজপত্রে হেডলাইট, ব্যবহৃত দরজা, শক অ্যাবজরভার, টেইল লাইটসহ বিভিন্ন খুচরা যন্ত্রাংশ আনার কথা বলা হলেও ভেতরে মেলে উচ্চমূল্যের চার চাকার যান।
তদন্তে দেখা যায়, আমদানিকৃত গাড়িগুলো পুরোপুরি না ভেঙে মাত্র তিন থেকে চারটি বড় খণ্ডে বা এসকেডি হিসেবে আনা হয়েছিল, যা সহজেই পুনরায় জোড়া দেওয়া সম্ভব। পুরো চালানটির শুল্কায়নযোগ্য দাম দেখানো হয়েছিল মাত্র ৯ লাখ ৯৩ হাজার ৫৪৭ টাকা। অথচ জব্দ করা বিএমডব্লিউ, লেক্সাস, রেঞ্জ রোভার ও টয়োটা ব্র্যান্ডের গাড়িগুলোর সম্ভাব্য বাজারমূল্য প্রায় সাড়ে চার থেকে পৌনে সাত কোটি টাকা।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত জুলাই মাসে কাস্টমস গোয়েন্দারা চালানটির খালাস স্থগিত করেন। পরবর্তী সময়ে ১৯ জুলাই শতভাগ কায়িক পরীক্ষা চালানো হয়। এসব যানের আসল পরিচয় বের করতে প্রথমবারের মতো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারের পাশাপাশি বিআরটিএ ও কুয়েট বিশেষজ্ঞদের সাহায্য নেওয়া হয়। গাড়ির বিবিধ অংশের নম্বর, লেবেল ও প্রতীক পরীক্ষা করে মডেল নিশ্চিত করা হয়।
আটক যানবাহনের মধ্যে রয়েছে ১ কোটি ৬০ লাখ থেকে ১ কোটি ৮৫ লাখ টাকার ২০১৭ সালের রেঞ্জ রোভার ভোগ, ২ থেকে সাড়ে ৩ কোটি টাকা মূল্যের ২০১৬ সালের লেক্সাস এলএক্স৫৭০, ৬০ থেকে ৯০ লাখ টাকার বিএমডব্লিউ ৬৫০আই এবং ৩০ থেকে ৪০ লাখ টাকার টয়োটা ক্রাউন অ্যাথলেট। রাজস্ব ফাঁকির চূড়ান্ত পরিমাণ নিরূপণ শেষে আমদানিকারকের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
