বিতর্কিত পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রত্যাহার ও দ্রুত জবাবদিহির দাবি

সম্পাদকীয় ৮ আগস্ট ২০২৬ ২৮৫০

জুলাই আন্দোলনে জড়িত বিতর্কিত পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে সরিয়ে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং স্বাধীন পুলিশ কমিশন গঠনের মাধ্যমে জনআস্থা ফেরানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিতর্কিত পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রত্যাহার ও দ্রুত জবাবদিহির দাবি

ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে বিতর্কিত ও সহিংস ভূমিকায় অভিযুক্ত বহু উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তা এখনও স্বপদে দায়িত্ব পালন করছেন বলে সোমবারে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তথ্য অনুযায়ী, তৎকালীন সময়ে কর্মরত শীর্ষ কর্মকর্তাদের প্রায় ৩৫ শতাংশই বর্তমানে বাহিনীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর এবং প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে বহাল রয়েছেন। যেখানে নির্বিচারে গুলি ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো গুরুতর অভিযোগে মামলা চলছে, সেখানে এমন ব্যক্তিদের দায়িত্ব পালন বা নামমাত্র সংযুক্ত থাকা চরম উদ্বেগজনক।

পরিবর্তনকামী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভেতরে এই অসংগতি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অভিযুক্তদের নিরাপদ আশ্রয় দিতে প্রশিক্ষণ শাখা বা বিশেষায়িত ইউনিটে বদলির চর্চা বাহিনীর পেশাদার সদস্যদের মনোবল ভাঙছে এবং অভ্যন্তরীণ তথ্য ফাঁসের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। বিচারপ্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত এসব কর্মকর্তাকে দায়িত্বে রাখলে বাহিনীর ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা ফিরবে না।

জনগণের নিরাপত্তা দেওয়া গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের পুলিশের মূল কাজ, কোনো গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষা করা নয়। তাই জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে বেআইনি নির্দেশ বাস্তবায়ন ও মানবাধিকার হরণের সঙ্গে সম্পৃক্তদের বিষয়ে দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি। তদন্ত চলাকালে তাদের প্রশাসনিক কাজ থেকে বিরত রেখে সাময়িক বরখাস্ত করা প্রয়োজন। শাস্তির বিকল্প হিসেবে বদলি বা সংযুক্তির ধারা বন্ধ করে অপরাধ প্রমাণ সাপেক্ষে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া সঙ্গত।

এছাড়া বিদেশে পলাতক কর্মকর্তাদের ইন্টারপোল ও আন্তর্জাতিক সংস্থার সহায়তায় দেশে এনে বিচারে মুখোমুখি করতে হবে। পুলিশকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখতে একটি স্বাধীন পুলিশ কমিশন গঠন করে নিয়োগ, পদোন্নতি ও শাস্তির প্রক্রিয়া স্বচ্ছ করা দরকার। জনআস্থা পুনর্বাহলে অভিযুক্তদের দ্রুত আইনি শাস্তির আওতায় আনাই প্রধান শর্ত।

আপনার প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য বিজ্ঞাপন দিন