বিদেশি শ্রমবাজার সম্প্রসারণে অভিবাসন খরচ কমানোর তাগিদ

সম্পাদকীয় ৭ আগস্ট ২০২৬ ৩০৩৫

আন্তর্জাতিক বাজারে জনশক্তি রফতানি বাড়াতে অভিবাসন ব্যয় হ্রাস ও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সুশাসন নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে উপার্জনের তুলনায় বাংলাদেশেই বিদেশ যাওয়ার খরচ সবচেয়ে বেশি।

বিদেশি শ্রমবাজার সম্প্রসারণে অভিবাসন খরচ কমানোর তাগিদ

দেশে আনুষ্ঠানিকভাবে কাজের সুযোগের ঘাটতির কারণে শিক্ষিত তরুণদের মধ্যে কর্মহীনতার প্রবণতা বাড়ছে। সম্প্রতি প্রকাশিত শ্রমশক্তি জরিপ মতে, প্রাথমিক স্তরের শিক্ষাপ্রাপ্তদের ক্ষেত্রে বেকারত্ব ১.৯৬ শতাংশ এবং মাধ্যমিকে ২.৯১ শতাংশ হলেও উচ্চশিক্ষিতদের ক্ষেত্রে তা বেড়ে ১৩.৫৪ শতাংশে পৌঁছেছে। এই পরিস্থিতিতে দেশের ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড কাজে লাগাতে পরবর্তী পাঁচ বছরে আন্তর্জাতিক বাজারে এক কোটি জনশক্তি পাঠানোর পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার।

তবে এই লক্ষ্য অর্জনে সবচেয়ে বড় বাধা হলো অস্বাভাবিক অভিবাসন ব্যয়। তথ্য অনুসারে, ভিয়েতনামের একজন কর্মীর নিয়োগ খরচ প্রায় ৬,৫০০ ডলার হলেও বাংলাদেশি কর্মীদের প্রবাসে যেতে গড়ে ৫,৫০০ ডলারের মতো খরচ হয়। কিন্তু আয়ের অনুপাতে বাংলাদেশি কর্মীদের ক্ষেত্রে এই খরচ ভিয়েতনামের চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি এবং প্রতিবেশী ভারত, শ্রীলঙ্কা, ফিলিপাইন ও ইন্দোনেশিয়ার তুলনায় চার থেকে পাঁচগুণ বেশি। ২০১৭ সালে সৌদি আরব, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরে যাওয়ার সরকারি ফি নির্দিষ্ট করে দেওয়া হলেও বাস্তবে কর্মীদের তার চেয়ে বহুগুণ অর্থ পরিশোধ করতে হয়।

অতিরিক্ত ব্যয়ের পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে কাজ করছে বহুস্তরবিশিষ্ট নিয়োগব্যবস্থা। সরাসরি চাহিদাপত্র না পেয়ে দেশীয় রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো একাধিক মধ্যস্বত্বভোগীর কাছ থেকে চড়া দামে ভিসা কেনে, যা শেষ পর্যন্ত কর্মীর ঘাড়ে গিয়ে পড়ে। এছাড়াও ২০১৩ সালের অভিবাসী আইন অমান্য করে বিমানভাড়ার দায় কর্মীদের ওপর চাপানো এবং অদক্ষ শ্রমিকের দরকষাকষির দক্ষতার অভাবও ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে। এমনকি রাজনৈতিক প্রভাবশালী এজেন্সি মালিকদের অনিয়ম ও ভিসা বাণিজ্যের কারণেও এই খাত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শ্রমবাজারের চাহিদা অনুধাবন করে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করা গেলে যাতায়াত ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচ অনেক কমে আসবে। এছাড়া পাসপোর্ট, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স ও শারীরিক পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোতে দুর্নীতি বন্ধ করা জরুরি। মালয়েশিয়ার সঙ্গে ২০১২ সালের জিটুজি পদ্ধতির অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে পুরো অভিবাসন প্রক্রিয়ায় সুশাসন ও স্বচ্ছতা আনা গেলে এক কোটি লোক বিদেশে পাঠানোর সরকারি পরিকল্পনা সফল করা সম্ভব হবে।

আপনার প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য বিজ্ঞাপন দিন