মার্কিন কংগ্রেসে প্রথম আফগান-আমেরিকান হিসেবে ইতিহাস গড়লেন আইশা ওয়াহাব
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় বিশেষ নির্বাচনে জয় পেয়ে মার্কিন কংগ্রেসে প্রথম আফগান-আমেরিকান প্রতিনিধি হিসেবে নাম লিখিয়েছেন আইশা ওয়াহাব। আগামী নভেম্বরে পূর্ণ মেয়াদের জন্য তিনি পুনরায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে প্রথম আফগান-আমেরিকান সদস্য হিসেবে ইতিহাস তৈরি করেছেন ক্যালিফোর্নিয়ার রাজ্য সিনেটর আইশা ওয়াহাব। গত ১৮ আগস্ট সম্পন্ন হওয়া একটি বিশেষ উপনির্বাচনে তিনি বার্ট বোর্ডের সভাপতি মেলিসা হার্নান্দেজকে পরাজিত করেন। সাবেক প্রতিনিধি এরিক সোয়ালওয়েল চলতি বছরের এপ্রিলে পদত্যাগ করায় খালি হওয়া আসনে অবশিষ্ট মেয়াদের জন্য ওয়াহাব নির্বাচিত হন। এই নির্বাচনে ওয়াহাব ৫৩.০৯ শতাংশ এবং তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হার্নান্দেজ ৪৬.৯১ শতাংশ সমর্থন পান।
৩৯ বছর বয়সে এই ইতিহাস গড়া ওয়াহাব ক্যালিফোর্নিয়ার ১৪তম কংগ্রেশনাল ডিস্ট্রিক্টের দায়িত্ব নেবেন। হেওয়ার্ড, ফ্রেমন্ট, ডাবলিন, প্লিজ্যান্টন ও লিভারমোরসহ আলামেডা কাউন্টির বেশ কিছু এলাকা এই ডিস্ট্রিক্টের অন্তর্ভুক্ত। আগামী বছরের জানুয়ারিতে বর্তমান মেয়াদের সময়সীমা শেষ হবে। তবে নিজের অবস্থান স্থায়ী করতে তাঁকে আগামী ৩ নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনে নতুন সীমানা পুনর্নির্ধারণের পর দুই বছরের পূর্ণাঙ্গ মেয়াদের জন্য পুনরায় হার্নান্দেজের সঙ্গে লড়াইয়ে নামতে হবে।
নির্বাচনী ফলাফলে দেখা যায়, প্রাথমিক পর্যায়গুলোতে ওয়াহাব বড় ব্যবধানে এগিয়ে থাকলেও পরবর্তীতে প্রতিযোগিতা বেশ তীব্র হয়। জুনের প্রথম পর্বের ভোটে তিনি ২১ পয়েন্টে এবং ১৬ জুনের বিশেষ বাছাইয়ে ২৬ পয়েন্টে এগিয়ে ছিলেন। তবে কম ভোটার উপস্থিতির এই উপনির্বাচনে আইপ্যাক বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করায় হার্নান্দেজ ব্যবধান অনেক কমিয়ে আনতে সক্ষম হন।
নিউইয়র্ক শহরে জন্ম নেওয়া আইশা ওয়াহাব শৈশবে বাবা-মাকে হারানোর পর পালক পরিবারে বড় হন এবং পরে আলামেডা কাউন্টির এক আফগান পরিবারে বেড়ে ওঠেন। ২০২২ সালে তিনি ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট সিনেটের প্রথম আফগান ও মুসলিম সদস্য নির্বাচিত হন। জয়ের পর এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি জানান, অর্থের জোরে যে এই এলাকার ভোট কেনা সম্ভব নয়, সেটি ভোটাররা প্রমাণ করেছেন। আক্রমণাত্মক প্রচারণা থেকে দূরে থেকে এলাকার উন্নয়নে কাজ করে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন তিনি। অন্যদিকে, নভেম্বরের ভোটে নতুন যুক্ত হতে যাওয়া ডাবলিনের প্রায় ২৬ হাজার ভোটারকে পাশে পেয়ে জয়ের আশা প্রকাশ করেছেন হার্নান্দেজ।
