মিশিগানের ওয়াশটেনাও কাউন্টির পক্ষে ফেডারেল আদালতের রায়, অভিবাসন নীতি বহাল
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানের ওয়াশটেনাও কাউন্টির স্যাংচুয়ারি অভিবাসন নীতি সংক্রান্ত মামলায় ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি খারিজ করে দিয়েছেন বিচারক এফকে বেহম। এতে স্থানীয় সরকার নিজস্ব অভিবাসন সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত বহাল রাখার সুযোগ পেল।

মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ওয়াশটেনাও কাউন্টির অভিবাসন সংক্রান্ত স্বাধীন নীতি বহাল রাখার নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আদালত। এ বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের দায়ের করা পিটিশন খারিজ করে দেন ইউএস ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের বিচারক এফকে বেহম। তিনি রায়ে উল্লেখ করেন, কেন্দ্রীয় সরকারের অভিবাসন আইন বাস্তবায়নে স্থানীয় প্রশাসনকে বাধ্য করার একচ্ছত্র অধিকার প্রেসিডেন্টের নেই। ফলে অভিবাসন ও কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা আইসের সাথে সহযোগিতা সীমিত রাখার সুযোগ পাচ্ছে কাউন্টিটি।
গত ২১ আগস্ট ফ্লিন্টের আদালতের দেওয়া ৮৬ পৃষ্ঠার এ আদেশে বলা হয়, মার্কিন সংবিধানের দশম সংশোধনী অনুযায়ী স্থানীয় সরকারের এই বিষয়ে নিজস্ব সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার রয়েছে। চলতি বছর এপ্রিলে ট্রাম্প প্রশাসন ওয়াশটেনাও কাউন্টির শেরিফ আলিশিয়া ডায়ার, প্রসিকিউটর এলি সাভিট এবং পরিচালনা পর্ষদের বিরুদ্ধে নালিশ জানিয়েছিল। তাদের অভিযোগ ছিল, ওয়াশটেনাও প্রশাসনের গৃহীত পদক্ষেপগুলো সুপ্রিমেসি ক্লজ ভঙ্গ করছে এবং আইনি তদারকিতে বাধা সৃষ্টি করে জননিরাপত্তা ক্ষুণ্ণ করছে।
কাউন্টির নীতি অনুযায়ী প্রসিকিউটরের দপ্তর অভিযুক্তের অবস্থান বিবেচনা করার সুযোগ পায়। এছাড়া আদালতের নির্দেশপত্র ব্যতীত শুধু আইসের অনুরোধে কাউকে আটকে না রাখা এবং পরোয়ানা ছাড়া কাউন্টির সরকারি জায়গায় অভিবাসন কর্মকর্তাদের ঢোকার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ ছিল। বিচারক বেহম জানান, সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী স্থানীয় সরকারের জন্য কেন্দ্রীয় সংস্থাকে সাহায্য করা বাধ্যতামূলক নয়। শেরিফের কার্যালয়ের বিরুদ্ধে বৈষম্যের অভিযোগও প্রমাণের অভাবে বাতিল হয়।
আদালতের রুলিংয়ের পর শেরিফ আলিশিয়া ডায়ার অভিমত ব্যক্ত করেন যে, কোনো রাজনৈতিক এজেন্ডা পূরণ নয়, বরং এলাকার অধিবাসীদের আইনগত অধিকার সুরক্ষা ও জননিরাপত্তাকেই তিনি অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। দ্বিতীয় মেয়াদে ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর স্যাংচুয়ারি এলাকাগুলোর জন্য কেন্দ্রীয় অনুদান বন্ধের হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। ক্যালিফোর্নিয়া, ইলিনয় ও নিউইয়র্কসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে চলা অন্তত ১৪টি মামলার মধ্যে ওয়াশটেনাওয়ের মামলাটি একটি।
