যুক্তরাষ্ট্রের ৪০ ট্রিলিয়ন ডলারের জাতীয় ঋণ: সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় বাড়ছে বিপুল চাপ

কমিউনিটি নিউজ ২৭ আগস্ট ২০২৬ ২৮১৩

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঋণ ৪০ ট্রিলিয়ন ডলার অতিক্রম করায় দেশটির সাধারণ নাগরিকদের শিক্ষা, আবাসন, ক্ষুদ্র ব্যবসা ও সামাজিক নিরাপত্তায় অতিরিক্ত খরচের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ৪০ ট্রিলিয়ন ডলারের জাতীয় ঋণ: সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় বাড়ছে বিপুল চাপ

যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ঋণের পরিমাণ গত ১৮ আগস্ট ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ৪০ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। আপাতদৃষ্টিতে এটি নিছক একটি পরিসংখ্যান মনে হলেও অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্রীয় এই ঋণের বোঝা পরোক্ষভাবে সেদেশের প্রতিটি নাগরিকের ওপর চেপে বসছে। এই বিপুল পরিমাণকে দেশের মোট জনসংখ্যা দিয়ে ভাগ করলে মাথাপিছু ঋণের পরিমাণ দাঁড়ায় আনুমানিক ১ লাখ ১৭ হাজার ডলার।

সিইও সেন্টার ও দ্য কনফারেন্স বোর্ডের একটি সাম্প্রতিক গবেষণা দেখাচ্ছে, বাজেট ঘাটতি মেটাতে সরকার অতিরিক্ত বন্ড বাজারে ছাড়লে সুদের হার বৃদ্ধি পায়। ফলে ১০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের সুদের হার বাড়লে শিক্ষাঋণ, বাড়ির বন্ধকী ঋণ এবং ছোট ব্যবসার ঋণের খরচও বহুলাংশে বেড়ে যায়। অন্যদিকে ঘাটতি নিয়ন্ত্রণে থাকলে নাগরিকদের ঋণ পরিশোধের ব্যয় কমে আসে।

শিক্ষাঋণের ক্ষেত্রে ২০২৮ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর মিলিয়ে ৭৫ হাজার ডলার ঋণ নেওয়া একজন শিক্ষার্থীর কথা ভাবা যাক। বর্তমান ধারায় ১০ বছরে তাকে মোট ১ লাখ ৩ হাজার ৬৪৫ ডলার শোধ করতে হতে পারে। তবে সরকারি ঘাটতি বাড়লে এই খরচ ১ লাখ ৪ হাজার ৬৪৮ ডলারে এবং ২০২৯ সালে মাত্র এক সপ্তাহের ঋণখেলাপির ঘটনা ঘটলে তা ১ লাখ ৬ হাজার ৪৯৫ ডলারে পৌঁছাবে। আশির দশকের মতো চড়া সুদের সংকট দেখা দিলে মোট পরিশোধ প্রায় ১ লাখ ২৩ হাজার ৭৩৬ ডলারে গিয়ে ঠেকতে পারে—যা বর্তমানের চেয়ে প্রায় ২০ হাজার ডলার বেশি।

গৃহঋণগ্রহীতাদের ক্ষেত্রেও এই প্রভাব বেশ স্পষ্ট। ২০৩১ সালে ৬ লাখ ডলারের একটি বাড়ি ২০ শতাংশ অগ্রিম দিয়ে কিনতে গেলে ভালো ও খারাপ পরিস্থিতির ভিত্তিতে খরচের তফাত হতে পারে ২৫ হাজার ডলার। তবে ২০৩৬ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করলে উচ্চ ঘাটতির কারণে বাড়তি খরচ হতে পারে প্রায় ২৪ হাজার ডলার। অন্যদিকে সুদের হারের চরম সংকটে ২ লাখ ডলার পর্যন্ত অতিরিক্ত ব্যয় ডেকে আনতে পারে, যা ১৯.২ শতাংশ বেশি।

ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারাও ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে উচ্চ খরচের মুখোমুখি হবেন। ২০৩১ ও ২০৩৬ সালে দুই দফায় মোট আড়াই লাখ ডলার ঋণ নেওয়া ব্যবসায়ীকে বর্তমান ধারায় শোধ করতে হবে ৩ লাখ ৩৪ হাজার ৭৪৭ ডলার। সরকারের ঘাটতি নিয়ন্ত্রণে থাকলে ৬ হাজার ৩০০ ডলার সাশ্রয় সম্ভব হলেও, ঋণখেলাপি বা সুদের চড়া সংকটে অতিরিক্ত ব্যয় ২০ হাজার থেকে ৬৫ হাজার ডলার পর্যন্ত বাড়তে পারে।

অবসরপ্রাপ্ত প্রবীণদের ক্ষেত্রে সামাজিক নিরাপত্তা তহবিলের সংকট বড় উদ্বেগ তৈরি করছে। কংগ্রেশনাল বাজেট অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ২০৩২ সালে এই তহবিলের রিজার্ভ ফুরিয়ে যেতে পারে। এর ফলে ২০৩২ সালে অবসরপ্রাপ্তদের প্রত্যাশিত মাসিক ২ হাজার ৪৬৬ ডলার ভাতা কমে ২ হাজার ২৯৩ ডলারে নামতে পারে এবং ২০৩৬ সালে এই ব্যবধান মাসে ৭৫৪ ডলারে পৌঁছাতে পারে। সুবিধা ধরে রাখতে সাধারণ তহবিল থেকে ২.৭ ট্রিলিয়ন ডলার স্থানান্তর করা হলে তা জাতীয় ঘাটতিকে আরও প্রসারিত করবে।

দ্য কনফারেন্স বোর্ডের পূর্বাভাস বলছে, বিদ্যমান ধারা বহাল থাকলে ২০৩৬ সাল নাগাদ মার্কিন জাতীয় ঋণ দেশটির মোট জিডিপির ১৫৪ শতাংশে পৌঁছাতে পারে, আর সংকট ঘনীভূত হলে তা ১৮০ শতাংশেও উঠতে পারে। নীতিনির্ধারকেরা দ্বিদলীয় কমিশন গঠন, বাজেট প্রক্রিয়ায় সংস্কার এবং স্বাস্থ্য ও সামাজিক খাতের আধুনিকায়নের মাধ্যমে ঋণের লাগাম কতটা টানতে পারেন, তার ওপরই নির্ভর করছে সাধারণ আমেরিকানদের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক চাপ।

আপনার প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য বিজ্ঞাপন দিন