যুক্তরাষ্ট্রে অভিভাবকহীন অভিবাসী শিশুদের আইনি সহায়তা পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা
যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন পদক্ষেপের কারণে অভিভাবকহীন অভিবাসী শিশুদের বিনামূল্যে আইনি সেবা পাওয়ার সুযোগ সংকুচিত হয়ে পড়েছে। এর ফলে ২০ হাজারের বেশি শিশুর মামলা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে মারাত্মক উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে অভিভাবকহীন অভিবাসী শিশুদের বিনামূল্যে আইনি সাহায্য পাওয়ার সুযোগ মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের গৃহীত নানা পদক্ষেপে শিশুদের পক্ষে কাজ করা সংস্থাগুলোর আইনি সহায়তা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এর ফলে সেদেশে থাকা ২০ হাজারের বেশি একা আসা অভিবাসী শিশুর মামলা পরিচালনা ও সুরক্ষা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
গত ৩১ জুলাই অ্যাকাসিয়া সেন্টার ফর জাস্টিসের সঙ্গে সরকারি সংস্থা অফিস অব রিফিউজি রিসেটেলমেন্টের চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়। এই চুক্তির অধীনে প্রায় ১০০টি অলাভজনক সংস্থা নেটওয়ার্ক হিসেবে কাজ করে শিশুদের পক্ষে অভিবাসন আদালতে আইনি লড়াই চালাত। ২০২৫ সালের মার্চে প্রশাসন এ চুক্তি বাতিলের উদ্যোগ নিলে জেলা আদালত কর্মসূচি চালু রাখার নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে সরকার আইনি সেবার বিপরীতে ৬ কোটি ৫০ লাখ ডলার বকেয়া আটকে রাখলে গত ৬ আগস্ট আদালত আবার তা মিটিয়ে দেওয়ার আদেশ দেন।
অ্যাকাসিয়ার চুক্তি শেষ হওয়ার পর বিকল্প খোঁজার প্রক্রিয়া নিয়েও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। প্রথমে কম অভিজ্ঞ বার্ক ল গ্রুপকে ভাবা হলেও পরে তারা সরে দাঁড়ায়। এরপর ৭ আগস্ট আওয়ার রেসকিউ নামের একটি মানবপাচারবিরোধী সংস্থাকে সর্বোচ্চ ২৪ কোটি ৪০ লাখ ডলারের নো-বিড চুক্তি দেওয়া হয়। তবে অভিবাসন আদালতে বিশালসংখ্যক শিশুর মামলায় প্রতিনিধিত্ব করার অভিজ্ঞতা তাদের রয়েছে কি না তা নিয়ে অধিকারকর্মীরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এছাড়া ২০২৩ সালে পদত্যাগ করা এর প্রতিষ্ঠাতা টিম ব্যালার্ডের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ছিল। বর্তমানে ইউএসসিআরআই আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এই শিশুদের সাময়িক আইনি দায়িত্ব নিয়েছে।
মার্কিন আইন অনুযায়ী অভিবাসীদের বিনামূল্যে সরকারি আইনজীবী পাওয়ার সাংবিধানিক অধিকার নেই। আমেরিকান ইমিগ্রেশন অ্যাসোসিয়েশনের তথ্যানুসারে, ২০১৯ থেকে ২০২৪ অর্থবছরের মধ্যে আইনজীবী না থাকা ব্যক্তিরা সহায়তাপ্রাপ্তদের চেয়ে আড়াই গুণ এবং আটক অবস্থায় ১০.৫ গুণ বেশি বহিষ্কারের আদেশের মুখোমুখি হয়েছেন। ইংরেজি ভাষায় দুর্বলতা এবং জটিল আইনের কারণে একা আসা শিশুদের পক্ষে নিজে মামলা লড়া অত্যন্ত কঠিন।
সমালোচকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসন সামগ্রিকভাবে অভিবাসীদের আইনি সুরক্ষার সুবিধা ছেঁটে ফেলার নীতি নিয়েছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে বিচার বিভাগ কাউন্সেল ফর চিলড্রেন ইনিশিয়েটিভ, লিগ্যাল ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম (এলওপি), ইমিগ্রেশন কোর্ট হেল্পডেস্ক এবং ফ্যামিলি গ্রুপ লিগ্যাল ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিল। ২০০৩ সাল থেকে চলা এলওপির জন্য ২০২৬ অর্থবছরে কংগ্রেস ২ কোটি ৭৫ লাখ ডলার বরাদ্দ রেখেছিল। সরকারের পদক্ষেপের বিরুদ্ধে ১২টি প্রতিষ্ঠান মামলা করায় ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে সে নির্দেশ প্রত্যাহার করা হলেও পরে মূল চুক্তি বাতিলের চেষ্টা চালানো হয়। লাগাতার এসব প্রশাসনিক টানা হেঁচড়ায় শিশুদের অধিকার ও সুরক্ষা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা জোরালো হচ্ছে।
