শিক্ষাঙ্গনে ছাত্রদল ও শিবিরের সংঘাত প্রতিরোধে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফেরানোর দাবি
কয়েকটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের সাম্প্রতিক সংঘাত ক্যাম্পাসগুলোতে উদ্বেগ তৈরি করেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাজনৈতিক সংযম ও প্রশাসনের নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হচ্ছে।

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু হয়ে রাজধানীর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ, সরকারি মাদ্রাসা-ই-আলিয়া এবং বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে ঘটা এসব পাল্টাপাল্টি ধাওয়া, হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় বহু শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন এবং ক্যাম্পাসগুলোতে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি সভাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া সহিংসতা হাসপাতাল পর্যন্ত গড়ায়। একই দিনে আলিয়া মাদ্রাসায় কক্ষ দখল ও অধ্যক্ষকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ ওঠে। পরবর্তীতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে উদযাপনী র্যালিকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষ মুখোমুখি অবস্থান নেয়। রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা, হল দখল কিংবা বহিরাগতদের উপস্থিতি ও প্রশাসনিক কোন্দলকে কেন্দ্র করে এই অস্থিতিশীলতা তৈরি হচ্ছে।
২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান হয়েছিল ফ্যাসিবাদী শাসন এবং ছাত্রলীগের দলীয় ক্যাডারভিত্তিক আধিপত্যের বিরুদ্ধে। দীর্ঘ সময় ধরে দমন-পীড়নের শিকার হওয়া ছাত্রসংগঠনগুলো যদি এখন পুনরায় ক্ষমতার লড়াইয়ে লিপ্ত হয়, তবে তা আন্দোলনের মূল চেতনার পরিপন্থী। রাজনৈতিক ভিন্নমত থাকলেও ক্যাম্পাসে কোনো প্রকার সহিংসতার স্থান থাকা উচিত নয়।
কোনো দলই আইন নিজের হাতে তুলে নিতে পারে না। তাই প্রতিটি অঘটনের নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের চিহ্নিত করা এবং আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা জরুরি। সংঘাত এড়িয়ে শিক্ষাঙ্গনে গণতান্ত্রিক সহাবস্থান ও স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে প্রশাসন ও সরকারসহ সব পক্ষেরই দায়িত্বশীল আচরণ প্রত্যাশিত।
