২০২৪-এর গণ-অভ্যুত্থান ও চে গেভারার চেতনার ঐতিহাসিক মেলবন্ধন
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানে সাধারণ মানুষের বীরত্ব ও সৃজনশীলতার সঙ্গে চে গেভারার ঐতিহাসিক লড়াই ও আত্মত্যাগের এক অনন্য সামঞ্জস্য পরিলক্ষিত হয়।

বাংলাদেশের ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থান প্রমাণ করেছে যে, জনগণের ব্যাপক অংশগ্রহণে পরিচালিত গণআন্দোলনে অসীম সৃজনশীলতার বিকাশ ঘটে। সেসময় দেশের বিভিন্ন শহর-নগরের দেয়ালে আঁকা অসংখ্য ছবি ও দেয়াললিখনের মাধ্যমে প্রতিবাদের সেই চিত্র ফুটে ওঠে। তেমনই এক ব্যতিক্রমী সৃষ্টি ছিল '৩৬ জুলাই'।
পঞ্জিকায় স্থান না পাওয়া এই তারিখটি কোটি মানুষের সম্মিলিত কল্পনার ফসল। আগস্টের ৫ তারিখকে তারা রক্তের অক্ষরে '৩৬ জুলাই' হিসেবে চিহ্নিত করেছিল। মৃত্যুভয় তুচ্ছ করে বহু মানুষের আত্মত্যাগ, জখম ও নিগ্রহের মধ্য দিয়ে সাধারণ জনগণই এই আন্দোলনের মূল চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছিল। দমবন্ধ পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পাওয়ার তাড়নাই তাদের রাজপথে নামিয়েছিল।
এই ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানের আত্মদানের সঙ্গে ১৯৬৭ সালে বিপ্লবী এর্নেস্তো চে গেভারার ত্যাগের একটি গভীর যোগসূত্র খুঁজে পাওয়া যায়। ১৯৬৭ সালের ৮ অক্টোবর বলিভিয়ার লা হিগেরা গ্রামের কাছে সেনা পরিবেষ্টিত হয়ে আহত অবস্থায় চে গেভারা এবং 'উইলি' নামের এক স্থানীয় সহযোদ্ধা আটক হন। কুবান বিপ্লবের অন্যতম প্রধান রূপকার, সাবেক কেন্দ্রীয় ব্যাংক গভর্নর ও শিল্পমন্ত্রী চে গেভারাকে একটি জরাজীর্ণ স্কুলে রাখা হয়।
ঘটনার পর লেফটেন্যান্ট কর্নেল আন্দ্রেস সেলিচ সেখানে গিয়ে চের সাথে প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা কথা বলেন। এর দীর্ঘ ২৯ বছর পর, ১৯৯৬ সালে সাংবাদিক জন লি অ্যান্ডারসন সেলিচের স্ত্রীর মাধ্যমে সেই কথোপকথনের নথিটি সম্পর্কে জানতে পারেন।
