অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহারে শিশুদের সার্বিক বিকাশে বাড়ছে স্বাস্থ্য ঝুঁকি

প্রযুক্তি ৭ আগস্ট ২০২৬ ৪৭৩৭

ডিজিটাল ডিভাইসের অতিব্যবহার শিশুদের মধ্যে অটিজম-সদৃশ আচরণের জন্ম দিচ্ছে। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানে 'ভার্চুয়াল অটিজম' কোনো স্বীকৃত রোগ নয়, এটি মূলত স্ক্রিননির্ভরতার কারণে ঘটে যাওয়া বিকাশগত বিলম্ব।

অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহারে শিশুদের সার্বিক বিকাশে বাড়ছে স্বাস্থ্য ঝুঁকি

বর্তমান যুগে মোবাইল, ট্যাবলেট ও কম্পিউটারের অতিব্যবহার শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বৃদ্ধিতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বিষয়টি নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যবিষয়ক প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে সতর্কবার্তা জারি করেছে। তবে স্ক্রিনটাইমের কারণে দেখা দেওয়া সমস্যাগুলোকে 'ভার্চুয়াল অটিজম' বলা হলেও এটি মূলত কোনো স্বীকৃত চিকিৎসাবৈজ্ঞানিক টার্ম নয়।

ডিএসএম-৫-টিআর বা আইসিডি-১১-এর মতো আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে এই পরিভাষার উল্লেখ নেই। রোমানিয়ার শিশু মনোরোগবিদ ড. মারিয়াস জামফির প্রথম এই বিষয়টি আলোচনায় আনেন। দীর্ঘক্ষণ পর্দার সামনে কাটানোর ফলে শিশুদের মধ্যে বাকবিকাশে বিলম্ব, চোখে চোখ রেখে কথা না বলা, সামাজিকতায় অনীহা ও একই আচরণের পুনরাবৃত্তির মতো লক্ষণ দেখা যায়, যা অটিজম স্পেকট্রাম ডিজঅর্ডারের রূপ বলে মনে হতে পারে।

তবে চিকিৎসাবিজ্ঞান স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, স্ক্রিন ব্যবহারের সঙ্গে অটিজমের সরাসরি কোনো কারণ-সংক্রান্ত যোগসূত্র নেই। অটিজম একটি স্নায়বিক ও জিনগত অবস্থা। অনিয়ন্ত্রিত স্ক্রিন ব্যবহারের ফলে শিশুরা বাস্তব জীবনের মিথস্ক্রিয়া ও শেখার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়, যার ফলে এই বিকাশগত বিলম্ব ঘটে। পরিবেশগত এই ঘাটতিগুলো সঠিক পরিচর্যা ও সময়মতো হস্তক্ষেপে দূর করা সম্ভব।

চিকিৎসকরা দুই বছরের কম বয়সী শিশুদের সব ধরনের স্ক্রিন থেকে দূরে রাখার পরামর্শ দেন। বড়দের ক্ষেত্রেও সময়সীমা বেঁধে দেওয়া উচিত। শিশুদের সুস্থ বিকাশের জন্য খেলাধুলা, বই পড়া ও মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথোপকথনের মতো বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতার কোনো বিকল্প নেই।

আপনার প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য বিজ্ঞাপন দিন