আমেরিকায় জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করতে ট্রাম্পের নতুন জোড়া নির্বাহী আদেশ
যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার সাংবিধানিক অধিকার সংকুচিত করতে দুটি নির্বাহী আদেশে সই করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তার এই পদক্ষেপটি আইনি বাধার মুখে পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে স্বয়ংক্রিয় নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ সীমিত করতে আবারও উদ্যোগ নিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই লক্ষ্যে তিনি গত বৃহস্পতিবার দুটি নতুন নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন। মূলত তথাকথিত ‘বার্থ ট্যুরিজম’ বন্ধ করা এবং নাগরিকত্বের অযোগ্য শিশুদের তালিকা বর্ধিত করাই এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, তার এই সিদ্ধান্ত আদালতে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হবে।
দ্বিতীয় মেয়াদে অভিবাসন দমন নীতি কঠোর করার অংশ হিসেবে ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই জন্মসূত্রে প্রাপ্ত নাগরিকত্ব ব্যবস্থা বিলোপের চেষ্টা চালিয়ে আসছেন, যদিও এখন পর্যন্ত তিনি সফল হননি। এ প্রসঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের পূর্ববর্তী রায়ের ওপর অসন্তোষ প্রকাশ করে ট্রাম্প সাংবাদিকদের জানান যে আদালতটির সিদ্ধান্ত দুঃখজনক ও অন্যায় ছিল, যার কারণে তারা এতে পরিবর্তন আনছেন।
চতুর্দশ সংশোধনী অনুযায়ী পূর্বে বিদেশি কূটনীতিক, দখলদার বাহিনী, বিদেশি জাহাজ এবং আমেরিকার আদিবাসীদের সন্তানরা সাধারণ নিয়মের বাইরে ছিল। হোয়াইট হাউসের ডেপুটি চিফ অফ স্টাফ স্টিফেন মিলার জানান, নতুন নির্দেশনায় এই আওতা আরও বাড়ানো হয়েছে। এখন থেকে বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠনের সদস্য, বিদেশি সরকারের পক্ষে কাজ করা লবিস্ট, বিভিন্ন সরকারি চাকরিজীবী এবং আমেরিকান সামোয়ার মতো ফেডারেল নাগরিকত্ব আইনবিহীন অঞ্চলের শিশুদেরও স্বয়ংক্রিয় নাগরিকত্বের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে।
এছাড়া কোনো বাবা-মা যদি জালিয়াতির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব অর্জনের চেষ্টা করেন, তবে তাদের সন্তানদের জন্মসূত্রে পাওয়া নাগরিক অধিকারও বাতিল করা হবে বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।
