ইরান সংঘাত মেটাতে সব পথ খোলা রাখার বার্তা মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টের
ইরানের সঙ্গে চলমান বিরোধ নিরসনে সামরিক, অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিকসহ সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ খোলা রাখার কথা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে ইরানকে বাধা দেওয়ার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তিনি।

তেহরানের সঙ্গে তৈরি হওয়া দ্বন্দ্বে ইতি টানতে আমেরিকা সামরিক শক্তি, অর্থনৈতিক চাপ ও কূটনীতির মতো সব পথই উন্মুক্ত রাখবে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি ঘিরে যখন দুই দেশের মধ্যে তীব্র বৈরিতা চলছে, ঠিক সে সময়ই তাঁর এই বক্তব্য সামনে এল। ভ্যান্স জানান, এই সংকটের সুষ্ঠু নিষ্পত্তি হলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমে আসবে এবং তা একটি স্থিতিশীল অবস্থায় থাকবে। একই সঙ্গে তেহরান যাতে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকার লাভ করতে না পারে, সে বিষয়ে ওয়াশিংটনের দৃঢ় অবস্থানের কথা তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।
আলোচনার টেবিলে তৈরি হওয়া স্থবিরতার পেছনে দুটি প্রধান কারণ উল্লেখ করেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট। তাঁর মতে, ইরানিদের মনস্তত্ত্ব অত্যন্ত জটিল এবং দেশটির অভ্যন্তরীণ শাসনব্যবস্থায় স্পষ্ট বিভাজন রয়েছে। সেখানে ক্ষমতাসীনদের এক অংশ যুদ্ধ সমাপ্তির পক্ষপাতী হলেও অন্য একটি চরমপন্থী গোষ্ঠী লড়াই চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে। এমন প্রেক্ষাপট থেকে মার্কিন জনগণ এবং প্রেসিডেন্টের জন্য সর্বোচ্চ অনুকূল ফল বয়ে আনাই ওয়াশিংটনের প্রাথমিক লক্ষ্য বলে তিনি মনে করেন। সংঘাতের চূড়ান্ত সমাধানে পৌঁছানো কঠিন ও সময়সাপেক্ষ হলেও এতে সাফল্য আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
এদিকে কূটনৈতিক চেষ্টা ব্যর্থ হলে সামরিক পদক্ষেপের পথ খোলা থাকলেও, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলপ্রয়োগের চেয়ে আলোচনার মাধ্যমেই সমঝোতায় পৌঁছানোকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। গত ৫ আগস্ট লাস ভেগাসের এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প জানান, সাধারণ মানুষের জীবনহানি এড়াতে তিনি একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে বেশি আগ্রহী। উল্লেখ্য, গত ১৮ জুন ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে একটি প্রাথমিক রূপরেখা চুক্তি সই হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা সম্পর্কিত বিষয়ে মতভেদের কারণে চূড়ান্ত আলোচনা আটকে যায়। এর ধারাবাহিকতায় গত মাসে ইরানজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলা এবং জবাবে জর্ডান, বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনায় তেহরানের পাল্টা হামলার পর দুই পক্ষের উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করে।
