গাজায় যুদ্ধবিরতির ৩০০ দিনে ৩০০ শিশুর মৃত্যু: ইউনিসেফ
গাজায় যুদ্ধবিরতি চলাকালেও ৩০০ দিনে অন্তত ৩০০ শিশুর প্রাণহানি ঘটেছে বলে জানিয়েছে ইউনিসেফ। চরম পুষ্টিহীনতা, অসুস্থতা ও হামলার মুখে গাজার শিশুরা মারাত্মক ঝুঁকিতে দিন কাটাচ্ছে।

জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ জানিয়েছে, অবরুদ্ধ গাজায় গত বছরের ১০ অক্টোবর তথাকথিত 'যুদ্ধবিরতি' শুরুর পর থেকে প্রায় ৩০০ দিনে কমপক্ষে ৩০০ শিশু প্রাণ হারিয়েছে। গত ৬ আগস্ট প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সংস্থাটি উল্লেখ করে, গাজায় গড়ে প্রতিদিন অন্তত একটি শিশুর মৃত্যু ঘটছে এবং আরও শত শত শিশু মারাত্মক জখম হচ্ছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া শান্তি প্রস্তাবের সঙ্গে জড়িত পক্ষগুলোকে গাজাবাসীকে দেওয়া অঙ্গীকার অবিলম্বে বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়েছে।
ইউনিসেফের মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা অঞ্চলের পরিচালক এদুয়ার্দ বেগবেদার জানান, তথাকথিত যুদ্ধবিরতির মধ্যেও দৈনিক একটি শিশুর মৃত্যু প্রমাণ করে এটি তাদের রক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে। তিনি আরও জানান, গাজার পুরো ভূখণ্ডের মাত্র এক-তৃতীয়াংশ অংশে এখন সাধারণ মানুষ কোনোমতে আশ্রয় নিয়ে রয়েছে। সেখানে ধ্বংসস্তূপ, নোংরা পরিবেশ, তীব্র পুষ্টিহীনতা ও পানিবাহিত রোগের কারণে শিশুরা জীবনঘাতী ঝুঁকিতে পড়েছে। চিকিৎসাসেবার মারাত্মক সংকটে ইনকিউবেটর না থাকায় চিকিৎসকরা একটিমাত্র যন্ত্রে একাধিক প্রিমেচিউর শিশুকে রাখতে বাধ্য হচ্ছেন।
গাজার স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যানুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরায়েলের নির্বিচার হামলায় মোট ৭৩ হাজার ৩০০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। ইউনিসেফের হিসাব মতে, দীর্ঘ স্থায়ী এই সংঘাতের ফলে গাজায় ৫৮ হাজারের বেশি শিশু বাবা-মা হারিয়ে এতিম হয়েছে। এর বাইরে প্রায় ১৭ হাজার শিশু পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন রয়েছে এবং ১০ লাখেরও বেশি শিশু মারাত্মক মানসিক ট্রমায় ভুগছে, যাদের জরুরি সামাজিক সুরক্ষা দরকার।
টানা তৃতীয় বছরের মতো সংঘাতের কারণে গাজার শিশুদের শৈশব কেড়ে নেওয়া হয়েছে। খেলার বয়স হলেও তারা সারা দিন দূর থেকে খাবার পানি আনছে, ত্রাণের সারিতে দাঁড়াচ্ছে কিংবা জ্বালানি কাঠ জোগাড় করছে। আশ্রয়শিবিরগুলোতে শিক্ষা ও বিনোদনের সরঞ্জাম নেই বললেই চলে। চলতি বছরের মে মাসের এক মূল্যায়নে ইউনিসেফ জানিয়েছিল, শিশুরা স্বাভাবিক বিকাশের সুযোগ পাচ্ছে না এবং দীর্ঘমেয়াদে শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
পূর্বে ফিলিস্তিনে ইউনিসেফের যোগাযোগ প্রধান জোনাথন ক্রিকস মন্তব্য করেছিলেন যে খেলাধুলা কোনো বিলাসিতা নয়, বরং তা শিশুদের যুদ্ধের ভয়াবহতা ভুলতে সাহায্য করে। সম্প্রতি কিছুটা সহিংসতা কমা ও ত্রাণ প্রবেশের আভাসে স্বস্তি প্রকাশ করলেও এদুয়ার্দ বেগবেদার বলেন, হামলা পুরো বন্ধ হওয়া, পর্যাপ্ত ত্রাণ পৌঁছানো এবং স্বাস্থ্য ও পানি ব্যবস্থা পুরোপুরি স্বাভাবিক হওয়াটাই গাজার শিশুদের নিরাপত্তার মূল মাপকাঠি।
