জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করতে ট্রাম্পের নতুন দুটি নির্বাহী আদেশ
যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের অধিকার সীমিত করতে নতুন দুটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণকারীদের স্বয়ংক্রিয় নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ সংকুচিত করতে নতুন দুটি প্রশাসনিক নির্দেশে স্বাক্ষর করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কয়েক সপ্তাহ আগেই দেশটির সর্বোচ্চ আদালত সংবিধান অনুযায়ী এই অধিকার বহাল রেখে রায় প্রদান করে। ট্রাম্পের এই সাম্প্রতিক পদক্ষেপ দুটি তাঁর আগের নেওয়া ভাবনার তুলনায় কিছুটা সীমিত পরিধির।
একটি নির্দেশে নাগরিকে রূপান্তরিত হওয়ার প্রচলিত ব্যতিক্রমগুলোর পরিধি বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। বিদ্যমান নিয়মে কেবল বিদেশি কূটনীতিক ও প্রতিপক্ষ সশস্ত্র বাহিনীর সন্তানরা এই অধিকার পান না। নতুন খসড়ায় বলা হয়েছে, কথিত সন্ত্রাসী, সন্তানকে নাগরিকত্ব দেওয়ার উদ্দেশ্যে আসা ব্যক্তি এবং নির্দিষ্ট কয়েকটি মার্কিন অঞ্চলে জন্ম নেওয়া শিশুরাও এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত হবে। অপর নির্দেশের মাধ্যমে তথাকথিত 'বার্থ ট্যুরিজম' প্রতিহত করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। গর্ভবতী নারীদের মার্কিন মুলুকে গিয়ে সন্তান জন্ম দেওয়ার চর্চা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি প্রধানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প সর্বোচ্চ আদালতের রায়ের সমালোচনা করে জানান, আদালত এক অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক সিদ্ধান্ত দিয়ে পুরো বিষয়টিকে প্রহসনে পরিণত করেছে। তবে তাঁর প্রশাসন নতুন কৌশল নিয়ে এগোচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পূর্ববর্তী নির্দেশের ন্যায় ট্রাম্পের এই নতুন পদক্ষেপগুলোও আইনি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হবে।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নিয়ে ট্রাম্প সংবিধানের ১৪তম সংশোধনীর নিজস্ব ব্যাখ্যা দিয়ে স্বয়ংক্রিয় নাগরিকত্ব সীমিতকরণের সূচনা করেছিলেন। তাতে বলা হয়েছিল, অস্থায়ী ভিসাধারী কিংবা অনিয়মিত অভিবাসীদের সন্তানরা আপনাআপনি মার্কিন নাগরিকত্ব পাবে না। তবে চলতি বছরের জুনে সুপ্রিম কোর্টের ৯ সদস্যবিশিষ্ট বেঞ্চের ৬ জন বিচারক ওই সিদ্ধান্তকে সংবিধানবিরোধী হিসেবে ঘোষণা দেন, যা ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসননীতির ক্ষেত্রে বড় ধরনের আইনি ধাক্কা হিসেবে বিবেচিত হয়।
