জুলাই অভ্যুত্থানের ভিডিও প্রদর্শনী ঘিরে হইচই, মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের ক্ষমা প্রার্থনা
রাজধানীতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অনুষ্ঠানে দেখানো একটি তথ্যচিত্র নিয়ে হট্টগোলের জেরে রাতে দুঃখ প্রকাশ করেছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। ভুল সংশোধন করে ভিডিওটি পুনরায় প্রকাশের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

ঢাকার আগারগাঁওয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত একটি ভিডিওচিত্রকে কেন্দ্র করে তীব্র বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে। পরবর্তীতে ঘটনাটিকে অনিচ্ছাকৃত ভুল উল্লেখ করে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে দুঃখ প্রকাশ করেছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়।
'জুলাই গণ-অভ্যুত্থান শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা' শীর্ষক ওই অনুষ্ঠানে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপির) শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সওয়া দুই মিনিটের ওই তথ্যচিত্রে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগের এক দফা দাবি এবং গণঅভ্যুত্থানের পেছনের মূল কৃতিত্ব তৎকালীন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আহ্বানে হয়েছে বলে দেখানো হয়। এতে অভ্যুত্থানের মূল নায়ক ও ঘটনাবলি উপেক্ষিত হয়েছে দাবি করে উপস্থিত অনেকে তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ জানান।
অনুষ্ঠান চলাকালেই বিশৃঙ্খলা শুরু হলে আমন্ত্রিত বিদেশী অতিথিরা স্থান ত্যাগ করেন। একপর্যায়ে এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন মঞ্চের মাইক নিয়ে পরিবেশ শান্ত করার চেষ্টা করেন। তবে পরবর্তীতে তিনি জানান যে ঘটনাটির ইতিহাস একপেশেভাবে তুলে ধরা হয়েছে এবং সেখানে প্রতিমন্ত্রীর পক্ষ থেকে আক্রমণাত্মক বক্তব্য দেওয়া হয়। পরিস্থিতির অবনতি ঘটায় তারা অনুষ্ঠানস্থল ছেড়ে যান। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক ও সাবেক উপদেষ্টারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে কড়া সমালোচনা করেন। তাদের মতে, বাস্তব ইতিহাস আড়াল করে অভ্যুত্থানকে একটি দলের একক সাফল্য হিসেবে দেখানোর চেষ্টা চালানো হয়েছে।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ নিজেও বক্তব্য দেওয়ার সময় ভিডিওচিত্রটির ত্রুটি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, অভ্যুত্থানের প্রতীক হিসেবে পরিচিত শহীদ আবু সাঈদ কিংবা খালেদা জিয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের ছবি এতে ছিল না, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। একটি জাতীয় অনুষ্ঠানে এ ধরনের হাঙ্গামা মোটেও গ্রহণযোগ্য নয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।
দিনের শেষভাগে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে প্রেরিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ঐতিহাসিক তথ্যের ঘাটতি ও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী গভীরভাবে দুঃখিত। অভ্যুত্থানের সঠিক ইতিহাস ফুটিয়ে তুলতে গবেষক, বিশেষজ্ঞ ও ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধিদের পরামর্শ নিয়ে অতি দ্রুত ভিডিওটি পরিমার্জন করে পুনরায় প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
