তরুণদের টানতে ইনস্টাগ্রামে নতুন কৌশলে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদি
সাম্প্রতিক ছাত্র বিক্ষোভের পর ভারতের প্রায় ৪০ কোটি তরুণ ভোটারের আস্থা অর্জনে ইনস্টাগ্রামসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে প্রচারের ধরন বদলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও তাঁর দল বিজেপি।

ভারতে সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সংকট এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রার্থীদের প্রবল আন্দোলনের মুখে তৎকালীন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগে বাধ্য হন। এই উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তরুণ প্রজন্মের ক্ষোভ প্রসমিত করতে এবং ২০২৯ সালের সাধারণ নির্বাচনকে লক্ষ্য রেখে নতুন প্রচারকৌশল গ্রহণ করেছে ক্ষমতাসীন বিজেপি। বিশেষ করে দেশের প্রায় ৪০ কোটি জেন-জি ভোটারদের মন জয় করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে নিজের সক্রিয়তা অনেকটাই বাড়িয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
তরুণদের আকৃষ্ট করতে সানগ্লাস ও বাইকার জ্যাকেট পরা থেকে শুরু করে জনপ্রিয় টিভি সিরিজ ‘ফ্রেন্ডস’-এর আবহসংগীত ব্যবহার করে রিলস প্রকাশ করছেন মোদি। গত ৩১ জুলাই প্রকাশিত এক ভিডিওতে তাঁকে সাধারণ ভঙ্গিতে সম্ভাষণ জানাতেও দেখা গেছে। প্রধানমন্ত্রীর পথ অনুসরণ করে তাঁর মন্ত্রিসভার সহকর্মী ও সরকারের বিভিন্ন দপ্তরও এখন হালকা সম্পাদনার ছোট ভিডিও বানিয়ে প্রচার করছে। এমনকি তরুণদের কাছে পৌঁছাতে 'স্ন্যাপচ্যাট' ব্যবহারের উদ্যোগ নিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। পাশাপাশি মুম্বাইজুড়ে ‘আই অ্যাম জেন-জি’ লেখা নানা পোস্টারও লাগানো হয়েছে।
ভার্চ্যুয়াল মাধ্যমের পাশাপাশি মাঠপর্যায়েও তরুণদের সঙ্গে সম্পৃক্ততা বাড়াতে চাইছে শাসকদল। মুম্বাইয়ে প্রায় ২ হাজার শিক্ষার্থীর মুখোমুখি হয়ে বক্তব্য দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বিজেপির মূল সংগঠন আরএসএস-এর প্রধান মোহন ভাগবতের। বর্তমানে ভারতের ১৪০ কোটি জনসংখ্যার অর্ধেকের বেশি মানুষের বয়স ৩৫ বছরের নিচে। ফলে ২০২৯ সালের নির্বাচনে তরুণ ভোটিং ব্লকের সমর্থন মোদির টানা চতুর্থ মেয়াদে ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনাকে ত্বরান্বিত করতে পারে।
বিশ্লেষক অসীম আলীর ভাষ্যমতে, সরকার নিয়ন্ত্রিত প্রচারযন্ত্রের বাইরে আন্দোলনকারীরা ইনস্টাগ্রাম রিলস ও শর্টসের মাধ্যমে নিজেদের বার্তা ছড়িয়ে মোদির রাজনৈতিক অপরাজেয়তার ভাবমূর্তিকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছিলেন। মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক জয়জিৎ পালের মতে, অতিরিক্ত মেপে তৈরি বা কৃত্রিম কনটেন্ট তরুণদের কাছে তেমন আবেদন তৈরি করে না। অপরদিকে পডকাস্টার অনুরাগ মাইনাস বর্মা মনে করেন, ইন্টারনেটের নিজস্ব সংস্কৃতির কারণে গুরুগম্ভীর রাজনৈতিক বার্তা দিয়ে তৈরি রিলস সহজেই ট্রোলের শিকার হতে পারে, তাই জেন-জি প্রজন্ম এই পরিবর্তনকে কীভাবে নেবে তা এখনো অনিশ্চিত।
