দুই মাসে নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে সাড়ে সাত শতাংশের বেশি, ভোক্তা সংগঠনের উদ্বেগ
গত সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে দেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ৭.৫২ শতাংশ বেড়েছে। প্রান্তিক ও ঢাকার বাজারের বড় দরপার্থক্য দূর করতে কঠোর নজরদারির তাগিদ দিয়েছে একটি ভোক্তা অধিকার সংগঠন।

দেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দামের ঊর্ধ্বমুখী ধারা বজায় রয়েছে। বিদায়ী সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর—এই দুই মাসে নিত্যপণ্যের সামগ্রিক মূল্য গড়ে ৭.৫২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মধ্যে কেবল অক্টোবর মাসেই ১৫ ধরনের প্রয়োজনীয় পণ্যের দর গড়ে ৪.৩৯ শতাংশ বেড়েছে। ৮ নভেম্বর রোববার প্রকাশিত একটি বাজার পর্যবেক্ষণ সংক্রান্ত প্রতিবেদনে এই চিত্র তুলে ধরেছে কনজুমার্স ফোরাম নামের একটি অধিকার রক্ষা সংস্থা।
প্রতিবেদনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, অক্টোবরে সবচেয়ে বেশি দাম বেড়েছে মাছের, যা গড়ে ১১.৭২ শতাংশ। বিভিন্ন মসলাজাতীয় পণ্যের দাম ১০.৩০ শতাংশ এবং পেঁয়াজ, রসুন ও আদার মূল্য ৭.৭৯ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে জ্বালানি তেল, চিনি, ভোজ্যতেল, আটা-ময়দা এবং চালের দামও উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি ডিম, মাংস ও চায়ের বাজারেও সামান্য দরবৃদ্ধি লক্ষ করা গেছে। তবে লবণ, দুগ্ধজাত দ্রব্য, ওষুধ ও খাতা-কলমসহ সাত ধরনের পণ্যের বাজার স্থিতিশীল ছিল। অন্যদিকে শাকসবজি ও সোনা-রুপার দাম কিছু পরিমাণ কমেছে।
প্রতিবেদনে শীতকালীন শাকসবজির মাঠপর্যায় ও রাজধানীর বাজারের মধ্যকার চরম মূল্যবৈষম্য ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। রংপুরের মতো উৎপাদনাঞ্চলে যে ফুলকপি ও বাঁধাকপি ৬ থেকে ১২ টাকায় মিলছে, ঢাকায় তা ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। একইভাবে মাঠপর্যায়ে ৮ থেকে ১০ টাকার লাউ রাজধানীতে ৬০ টাকা এবং ৫ থেকে ৮ টাকা হালির কাঁচকলা ঢাকায় ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা যাচ্ছে। এতে উৎপাদনকারীরা মূল খরচ তুলতে না পারলেও মধ্যস্বত্বভোগী ও দুর্বল তদারকির কারণে ভোক্তাদের চড়া দর দিতে হচ্ছে।
সংগঠনটি হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে যে, জিনিসপত্রের দাম এভাবে বাড়তে থাকলে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের ক্ষোভ বাড়বে। কেবল বেতন-ভাতা বৃদ্ধি করে এই সংকটের সমাধান হবে না, বরং বাসাভাড়া, চিকিৎসা ও শিক্ষা ব্যয় নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। গ্রাম পর্যায় থেকে শহর পর্যন্ত বাজার তদারকি জোরদার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
