নানা পাটেকরের প্রয়াণ: খ্যাতির বাইরে পর্দার নেপথ্যে সক্রিয় ছেলে মালহার
প্রখ্যাত অভিনেতা নানা পাটেকরের প্রয়াণের পর আলোচনায় এসেছেন তাঁর সন্তান মালহার পাটেকর। বাবার বিশাল খ্যাতি থাকা সত্ত্বেও গ্ল্যামার জগত এড়িয়ে পর্দার অন্তরালে নিজের ক্যারিয়ার গড়েছেন তিনি।
হিন্দি ও মারাঠি চলচ্চিত্র জগতের বরেণ্য ব্যক্তিত্ব নানা পাটেকর ৭৫ বছর বয়সে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে গোয়ার ডোনা পাওলায় শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। গত ৮ অক্টোবর তাঁর প্রয়াণের বিষয়টি নিশ্চিত করে পরিবার। পুনের জেলা প্রশাসক জিতেন্দ্র দুদি জানান, দোনজে গ্রামের পারিবারিক খামারবাড়িতে প্রবীণ এই শিল্পীর শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে।
অভিনেতার এই প্রয়াণে নজর এসেছে তাঁর একমাত্র জীবিত সন্তান মালহার পাটেকরের ওপর। নানা পাটেকর ও মারাঠি অভিনেত্রী নীলকান্তি পাটেকরের ১৯৭৮ সালে বিয়ে হয়। তাঁদের দুই ছেলের মধ্যে বড় ছেলে দুর্বাসা শৈশবেই অসুস্থ হয়ে মারা যান। দম্পতিটি পরবর্তীকালে আলাদা থাকলেও আইনি বিচ্ছেদ ঘটাননি। তারকা পিতা-মাতার সন্তান হয়েও মালহার সবসময় নিজেকে প্রচারের আলো ও লোকচক্ষুর অন্তরালে রেখেছেন।
শিক্ষা জীবনের প্রাথমিক ধাপ মুম্বাইয়ের সরস্বতী মন্দির হাইস্কুলে শেষ করার পর মালহার বাণিজ্য নিয়ে পড়াশোনা করেন। এরপর তারকা হিসেবে প্রতিষ্ঠার পথে না হেঁটে তিনি চলচ্চিত্র নির্মাণের কারিগরি বিদ্যা অর্জনে মনোযোগী হন এবং সহকারী পরিচালক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন।
মালহারের কাজের তালিকায় রয়েছে ২০১৩ সালের সিনেমা 'দ্য অ্যাটাকস অব ২৬/১১', যেখানে রাম গোপাল ভার্মার অধীনে তিনি সহকারী পরিচালক ছিলেন। এ চলচ্চিত্রে মূল চরিত্রে ছিলেন তাঁর বাবা। এ ছাড়া তিনি 'নানা সাহেব প্রোডাকশন হাউস' নামের একটি প্রযোজনা সংস্থাও চালু করেন।
এর আগে ১৯৯১ সালে নানা পাটেকর পরিচালিত ও অভিনীত সামরিক গল্পভিত্তিক চলচ্চিত্র 'প্রহার: দ্য ফাইনাল অ্যাটাক'-এ শিশুশিল্পী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছিলেন মালহার। পরবর্তীতে ২০১৪ সালে জয় অগাস্টিন পরিচালিত 'দ্য লিটল গডফাদার' ছবিতে অঙ্গদ বেদির সঙ্গে পার্শ্বচরিত্রে তাঁকে দেখা যায়। অভিনয় ও প্রযোজনায় যুক্ত থাকলেও ক্যামেরার পেছনের জগতই সবসময় তাঁর প্রথম পছন্দ ছিল।
