পশ্চিমবঙ্গে মসজিদের মাইক খোলা ঘিরে বিতর্ক, বিরোধীদের নিশানা ও আইনি লড়াইয়ের হুঁশিয়ারি
পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন মসজিদে দূষণ নিয়ন্ত্রণ বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে পুলিশি অভিযানে মাইক খুলে নেওয়ার ঘটনায় রাজ্যজুড়ে রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

শব্দদূষণ প্রতিরোধের অজুহাতে পশ্চিমবঙ্গের একাধিক জেলায় পুলিশি তৎপরতায় মসজিদের মাইক খুলে নেওয়া নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। গত সোমবার, ৩ আগস্ট মালদা জেলার চাচল থানা এলাকায় এক মসজিদের মাইক খুলে ফেলার দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি সামনে আসে। এরপরই রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে একপেশে পদক্ষেপের অভিযোগ এনে সোচ্চার হয়েছেন বিরোধী রাজনৈতিক দল ও ধর্মীয় সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে বিধায়ক নজরুল ইসলাম জানান, পুলিশ লিখিত আদেশ দেখাতে না পারলে সাধারণ মানুষের নিজেদের উদ্যোগে মাইক খোলা উচিত নয়। তবে প্রশাসন জোরপূর্বক তা সরাতে চাইলে বাধা না দিয়ে ভিডিও করে রাখা এবং পুলিশ কর্মকর্তার পরিচয় নথিভুক্ত করার পরামর্শ দেন তিনি। আদালতের বেঁধে দেওয়া শব্দসীমার প্রতি সমর্থন জানিয়ে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কোনো আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি ছাড়া মাইক খুলে নেওয়া মেনে নেওয়া যায় না। একই ধরনের ক্ষোভ প্রকাশ করে আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী এ বিষয়ে রাজ্য পুলিশকে চিঠি দিয়েছেন। লিখিত নির্দেশনা ছাড়া এমন পদক্ষেপকে মৌলিক অধিকারের লঙ্ঘন আখ্যা দিয়ে তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে আইনি লড়াই চালানো হবে।
অন্যদের মধ্যে কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী বলেন, কেবল মসজিদ নয়, মন্দিরসহ সব ধর্মীয় স্থানের উচ্চ শব্দই সাধারণ মানুষের সমস্যার কারণ হতে পারে। তাই সবক্ষেত্রেই সমানভাবে শব্দ নিয়ন্ত্রণ করা উচিত এবং ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খোঁজা প্রয়োজন। অন্যদিকে সিপিএম নেতা ও আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য মন্তব্য করেন, নির্ধারিত ডেসিবেল মাত্রার ভেতরে আজান চলাকালে পুলিশ তা সরাতে পারে না। এ ঘটনায় সাবেক তৃণমূল ও বর্তমানে এনসিপিআই দলের তিন সংখ্যালঘু সংসদ সদস্য কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কাছে লিখিত দরখাস্ত জমা দিয়েছেন।
আইনি প্রেক্ষাপটে ১৯৯৬ সালের কলকাতা হাইকোর্ট ও পরবর্তীতে সুপ্রিম কোর্টের রায়ে উল্লেখ করা হয়, উপাসনালয়ে মাইক ব্যবহার কোনো মৌলিক অধিকার নয় এবং আবাসিক এলাকায় দিনের বেলা ৫৫ ও রাতে ৪৫ ডেসিবেলের সীমা বজায় রাখা আবশ্যক। রাজ্য সরকারের পক্ষে মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল ও তাপস রায় জানান, দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের বিধি কোনো নির্দিষ্ট ধর্মের বিরুদ্ধে নয়, বরং সব উপাসনালয়ের ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রযোজ্য। একইভাবে বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্য উপাসনালয়ের ভেতরে ধর্মাচরণের পক্ষে সওয়াল করলেও মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ জানান, শব্দসীমায় নিয়ন্ত্রণ থাকা জরুরি তবে সেক্ষেত্রে জোরজুলুমের প্রয়োজন নেই।
