বুকের ব্যথা গ্যাসের নাকি হার্ট অ্যাটাকের: চিনবেন যেভাবে
বুকের সব ব্যথা গ্যাসের কারণে হয় না; এটি হার্ট অ্যাটাকের বড় ধরনের পূর্বাভাস হতে পারে। লক্ষণ দেখে এ দুইয়ের তফাত বুঝতে পারলে মারাত্মক ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব।

বুকের মধ্যে অস্বস্তি বা চাপ অনুভব করলে অনেকেই তাকে পাকস্থলীর এসিডিটি ভেবে অবহেলা করেন। দ্রুত উপশমের আশায় অ্যান্টাসিড জাতীয় ওষুধ খেয়ে বসে থাকা মানুষের সংখ্যা কম নয়। তবে এ ধরনের অবহেলা অনেক সময় মারাত্মক বিপদ ডেকে আনতে পারে, কারণ বুকের ব্যথার আড়ালে লুকিয়ে থাকতে পারে প্রাণঘাতী হৃদরোগের সংকেত।
পাকস্থলী বা পরিপাকতন্ত্রের সমস্যার কারণে বুকে প্রদাহ হলে সাধারণত বুকের মধ্যভাগে জ্বালাভাব, টক ঢেকুর উঠে আসা, পেটে অস্বস্তি কিংবা পেট ফাঁপার অনুভূতি দেখা দেয়। সাধারণত অতিরিক্ত তেল-মসলাযুক্ত খাবার খাওয়ার পর বা শোয়ার মুহূর্তে এই কষ্ট বাড়তে পারে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এসিডিটির ওষুধ সেবনে এসব লক্ষণে কিছুটা স্বস্তি মেলে।
অন্যদিকে, হৃদরোগ বা হার্ট অ্যাটাকের ক্ষেত্রে ব্যথার ধরন বেশ ভিন্ন হয়। এতে বুকে তীব্র চাপ, বুক শক্ত করে ধরে রাখা কিংবা ভারী কিছু চেপে বসার মতো অভিজ্ঞতা তৈরি হয়। এই অস্বস্তি কেবল বুকেই সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং বাঁ হাত, কাঁধ, ঘাড়, থুতনি কিংবা পিঠের দিকেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। এর পাশাপাশি অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রমে বা হাঁটার সময় ব্যথা বাড়লে তা অত্যন্ত বিপজ্জনক সঙ্কেত। সঙ্গে থাকতে পারে প্রচণ্ড ক্লান্তি, ঠান্ডা ঘাম হওয়া, শ্বাস নিতে কষ্ট, বমি ভাব কিংবা মাথা ঘোরার লক্ষণ।
তবে সবার ক্ষেত্রে উপসর্গ একই রকম না-ও হতে পারে। বিশেষ করে বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তি, নারী ও ডায়াবেটিসে আক্রান্তদের মধ্যে বুকের তীব্র ব্যথা ছাড়াও কেবল মারাত্মক ক্লান্তি, হাঁপিয়ে ওঠা বা বমি ভাব দিয়েও হার্ট অ্যাটাক দেখা দিতে পারে।
যদি বুকে অস্বস্তি ১৫ থেকে ২০ মিনিটের বেশি স্থায়ী হয় এবং বিশ্রামেও না কমে, কিংবা সঙ্গে শ্বাসকষ্ট ও ঘামার মতো উপসর্গ যুক্ত হয়, তবে অনতিবিলম্বে নিকটস্থ হাসপাতালের জরুরি চিকিৎসাসেবা নেওয়া উচিত। মনে রাখা প্রয়োজন, প্রতিটি বুকব্যথা হার্ট অ্যাটাক না হলেও কোনো বুকব্যথাকেই অবহেলা করা ঠিক নয়। সময়মতো সঠিক পদক্ষেপ নিলে অকালঝুঁকি থেকে প্রাণ রক্ষা পাওয়া সম্ভব।
