বিড়ালের ডাক ও দৈহিক অঙ্গভঙ্গি বোঝার সহজ উপায়

লাইফস্টাইল ৮ আগস্ট ২০২৬ ২৯৯৮

পোষা বিড়ালের বিচিত্র শব্দ, লেজের নাড়াচাড়া ও চোখের চাহনি পর্যবেক্ষণ করে তাদের মনের ভাষা সহজে বোঝা সম্ভব। সঠিক যোগাযোগের মাধ্যমে মালিকের সঙ্গে বিড়ালের সম্পর্ক আরও গভীর হয়।

বিড়ালের ডাক ও দৈহিক অঙ্গভঙ্গি বোঝার সহজ উপায়

বিজ্ঞানীদের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, মানুষের সাথে ভাব বিনিময়ের উদ্দেশ্যে বিড়াল বিচিত্র ধরনের ডাক ও শারীরবৃত্তীয় সংকেত ফুটিয়ে তোলে। বিড়ালের মেজাজ ও প্রয়োজনীয়তার ওপর ভিত্তি করে ওদের ‘ম্যাও’ শব্দের ধরণ পরিবর্তিত হয়। ঘর থেকে গৃহকর্তা ফিরলে সংক্ষেপে হেসে অভ্যর্থনা জানালেও দীর্ঘ অনুপস্থিতির পর অনবরত ডেকে আনন্দ প্রকাশ করে। খাদ্য কিংবা পানির তৃষ্ণা পেলে মাঝারিমানের স্বরে এবং জরুরি প্রয়োজনে তুলনামূলক দীর্ঘ শব্দে মেওয়ায়। অসন্তোষ কিংবা অভিযোগ জানাতে বিড়াল মৃদু স্বরে ডাক ছেড়ে থাকে।

বিড়ালের মানসাসিক পরিস্থিতি বুঝতে লেজের চালচলন পর্যবেক্ষণ করা কার্যকর। খাড়া ও মাথার দিক সামান্য বাঁকানো লেজ দিয়ে সে প্রফুল্লা ভাব নির্দেশ করে, আবার অস্থিরতায় লেজ কাঁপতে থাকে। বিপদের আশঙ্কা করলে কিংবা খেলাধুলার মেজাজে থাকলে লেজের পশম খাড়া হয়ে যায়। আক্রমণের প্রস্তুতিতে লেজটি ইংরেজি ‘এন’ অক্ষরের বাঁক নেয়, আশঙ্কিত হলে লেজ গুটিয়ে ফেলে এবং পায়ের চারপাশে জড়িয়ে ধরে গভীর অনুরাগ জ্ঞাপন করে।

চোখের ইশারার মাধ্যমেও বিড়ালের সঙ্গে সুসম্পর্ক তৈরি সম্ভব। কোনো বিড়ালের দিকে তাকিয়ে ধীরে পলক ফেললে সেটিকে সে বন্ধুত্বপূর্ণ মনে করে। অন্যদিকে অপলক দৃষ্টিকে ওরা আক্রমণাত্মক ও অস্বস্তিকর মনে করতে পারে। তবে বিড়াল যদি নিজে ধীরে পলক ফেলে বা মানুষের দিকে অপলক চেয়ে থাকে, তা ওর আস্থা ও ভালোবাসা প্রকাশ করে। চোখের মণি প্রসারিত হওয়া খেলাধুলার ইচ্ছা, ভয় কিংবা উত্তেজনার লক্ষণ হতে পারে।

শারীরিক অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমেও বিড়াল হৃদয়ের অনুভূতি তুলে ধরে। গায়ে শরীর ঘষা, নাকে নাক ছোঁয়ানো কিংবা মাথা দিয়ে মৃদু টোকা দেওয়া হলো বন্ধুত্বের ইঙ্গিত। মানুষকে নিজের পরিজন ভাবলে বিড়াল তাদের শরীর চাটে বা চুল পরিপাটি করার চেষ্টা হিসেবে চুল খাওয়ার মতো আচরণ করে। তবে মৃদু কামড় দিতে চাইলে বুঝতে হবে বিড়ালটি এখন কিছুটা সময় একা কাটাতে আগ্রহী।

আপনার প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য বিজ্ঞাপন দিন