বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্রদল ও শিবিরের দফায় দফায় সংঘর্ষ, আহত অন্তত ৫০

আন্তর্জাতিক ৭ আগস্ট ২০২৬ ৪৭৩৭

দেশের অন্তত চারটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পর পর দুই দিন ছাত্রদল ও ছাত্র শিবিরের সংঘর্ষে প্রায় অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী জখম হয়েছেন। উভয় সংগঠনই এই সহিংসতার জন্য পরস্পরকে দায়ী করেছে।

বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্রদল ও শিবিরের দফায় দফায় সংঘর্ষ, আহত অন্তত ৫০

সম্প্রতি দেশের অন্তত চারটি শিক্ষা প্রাঙ্গণে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘাতময় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। টানা দুই দিনের এসব মারামারিতে দুই পক্ষের অন্তত ৫০ জন নেতাকর্মী আহত হন। সংঘাতকালে বাঁশ, রড ও দেশীয় নানা অস্ত্রের ব্যবহার দেখা গেছে।

গত সোমবারে রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে জুলাই অভ্যুত্থান স্মরণে আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করে শিবির। সেখানে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের অপশাসনের চিত্রের পাশাপাশি একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত জামায়াত নেতাদের ছবি সংবলিত পোস্টার টাঙানোকে কেন্দ্র করে দুই দলের কর্মীদের মধ্যে তর্কাতর্কি ও পরবর্তীতে সহিংসতা শুরু হয়।

পরদিন মঙ্গলবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক মামুন আহমেদের উপস্থিতিতে এক অনুষ্ঠানে শিবিরের নেতাকর্মীরা তাদের বিভিন্ন দাবি সম্বলিত প্লাকার্ড নিয়ে ঢুকতে গেলে ছাত্রদল বাধা দেয়। এতে হাতাহাতির একপর্যায়ে শিবির কর্মীদের বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা থেকে বের করে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল ইনস্টিটিউট হাসপাতালে আহতদের দেখতে গেলে সেখানেও হামলার ঘটনা ঘটে এবং ভাংচুর চালানো হয়। পরে সন্ধ্যায় পুলিশের সহায়তায় চিকিৎসাধীনদের অ্যাম্বুলেন্সে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়।

একই দিন পুরান ঢাকার বকশীবাজার এলাকার ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসায় দুই পক্ষ লাঠিসোটা নিয়ে সংঘর্ষে জড়ায় এবং একাধিক ব্যক্তি আহত হন। অন্যদিকে ঢাকা কলেজেও উভয় সংগঠনের মধ্যে সংঘাত ঘটে, যার জেরে নিউমার্কেট সংলগ্ন এলাকায় দুটি ককটেল বিস্ফোরণের তথ্য পাওয়া গেছে।

এসব ঘটনার পেছনে এক দল অন্য দলকে অভিযুক্ত করছে। ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিবের মতে, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে শিবির আগে আক্রমণ চালিয়েছিল, যার জবাবে অন্য ক্যাম্পাসগুলোতে তাদের প্রতিরোধ করা হয়েছে। অন্যদিকে শিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম দাবি করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে আধিপত্য বিস্তার করতেই ছাত্রদল তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। এসব ঘটনার পর শিবির বিক্ষোভ মিছিল করেছে এবং জামায়াতে ইসলামীও হামলার নিন্দা জানিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছে।

আপনার প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য বিজ্ঞাপন দিন