বিষাক্ত ইনজেকশনেও বেঁচে যাওয়া ক্রিস্টা ভেন্টিলেটরে, স্থগিত টেনেসির সব মৃত্যুদণ্ড

আন্তর্জাতিক ৪ অক্টোবর ২০২৬ ২৯৯৮

প্রাণঘাতী ইনজেকশন প্রয়োগের পরও যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসির বন্দি ক্রিস্টা পাইক বেঁচে যান। তিন দিন ধরে কোমা ও ভেন্টিলেটরে থাকায় রাজ্যের সব মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করে পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছেন গভর্নর।

বিষাক্ত ইনজেকশনেও বেঁচে যাওয়া ক্রিস্টা ভেন্টিলেটরে, স্থগিত টেনেসির সব মৃত্যুদণ্ড

যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে প্রাণঘাতী বিষাক্ত ইনজেকশন প্রয়োগের পরও বেঁচে গেছেন ক্রিস্টা পাইক নামে এক নারী বন্দি। তবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের এই ব্যর্থ চেষ্টার পর গত তিন দিন ধরে তিনি ন্যাশভিলের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় লাইফ সাপোর্টে রয়েছেন। আইনজীবীরা আদালতে জানিয়েছেন, ইনটিউবেট করে ভেন্টিলেটরে রাখা হলেও তিনি এখনও অচেতন অবস্থায় রয়েছেন।

আইনজীবীদের তথ্যানুযায়ী, বিষাক্ত রাসায়নিক পেন্টোবারবিটালের মারাত্মক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এবং দুই হাতের ক্ষতের জন্য তার চিকিৎসা চলছে। ১৯৯৫ সালে ১৯ বছর বয়সী কলিন স্লেমার হত্যাকাণ্ডে দোষী সাব্যস্ত হওয়া ক্রিস্টা বিগত ২০০ বছরের মধ্যে টেনেসিতে সাজা পাওয়া প্রথম নারী মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হতে যাচ্ছিলেন। তবে বিষ প্রয়োগের পরও তার শ্বাসপ্রশ্বাস চলতে দেখে ঘটনাটিকে অস্বাভাবিক ও ত্রুটিপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।

এই ঘটনার পর অঙ্গরাজ্যটির গভর্নর বিল লি চলতি বছর নির্ধারিত সব মৃত্যুদণ্ড স্থগিত ঘোষণা করেছেন। বুধবারের ব্যর্থতার পেছনের কারণ অনুসন্ধানে এক স্বাধীন সংস্থার মাধ্যমে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হবে বলে তিনি জানান। এই আদেশের ফলে অন্য এক বন্দি গ্যারি সাটনের আগামী ডিসেম্বরের নির্ধারিত মৃত্যুদণ্ডও সাময়িকভাবে আটকে গেছে।

কারাগার কর্তৃপক্ষ সব নিয়ম মেনে চলার দাবি করলেও আসামিপক্ষের আইনজীবীরা এ পর্যালোচনার সিদ্ধান্তকে অপ্রতুল বলে ক্ষোভ জানান। শিরার জটিলতা, নিম্নমানের ওষুধ ও জরুরি চিকিৎসাসেবার অভাবকে দায়ী করে তারা আসামির সাজা কমানোর দাবি তোলেন। তাদের মতে, যন্ত্রণাদায়ক মৃত্যুর যে ভয় আসামির ছিল, শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসে তাকে ঠিক সেই অমানুষিক কষ্টই পোহাতে হয়েছে।

ঘটনার পর নিহত স্লেমারের স্বজনেরাও সরকারের নীরবতায় ক্ষোভ ও হতাশা ব্যক্ত করেছেন। একইসঙ্গে কারাবিভাগের কমিশনার ফ্রাঙ্ক স্ট্রাডারের দায়িত্বশীলতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, যিনি পূর্বে অন্য অঙ্গরাজ্যে থাকাকালেও একাধিক সমস্যাময় মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতীতে যান্ত্রিক জটিলতায় মৃত্যুদণ্ড রদের নজির থাকলেও রাসায়নিক শরীরে প্রবেশের পর জীবিত থাকার এই ঘটনা আইনি ইতিহাসে সম্পূর্ণ নজিরবিহীন।

আপনার প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য বিজ্ঞাপন দিন