বিড়ালের তীক্ষ্ণ বুদ্ধিমত্তা ও স্মৃতির গোপন রহস্য উন্মোচন করলেন গবেষকেরা
কুকুরের মতোই বিড়ালের মেধা ও প্রখর স্মৃতিশক্তি রয়েছে বলে সাম্প্রতিক গবেষণায় উঠে এসেছে। মানুষের মস্তিষ্কের মতো গঠন ও বিশেষ ঘটনার স্মৃতি ধারণের ক্ষমতার কারণে এরা বেশ চতুর প্রাণী হিসেবে পরিচিত।

পোষ্য হিসেবে বিড়ালের চটপটে স্বভাব ও বিভিন্ন কৌশল শেখার সক্ষমতা সবারই পরিচিত। তবে বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, এদের মেধা কেবল কিছু চাতুর্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বিড়ালের মগজের সেরিব্রাল কর্টেক্স অংশে প্রায় ২৫ কোটি নিউরন বিদ্যমান, যা জটিল চিন্তাভাবনা ও তথ্য বিশ্লেষণের কাজ করে। গঠনগত দিক থেকে মানুষের মস্তিষ্কের সঙ্গে মিল থাকার পাশাপাশি এতে নিউরোপ্লাস্টিসিটি বা স্নায়বিক নমনীয়তা রয়েছে। ফলে নতুন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে এরা নিজেদের মগজের গঠন পুনর্গঠিত করতে পারে।
দীর্ঘদিন ধরে কুকুরকে বিড়ালের চেয়ে বেশি বুদ্ধিমান ভাবা হলেও আধুনিক গবেষণায় সেই ধারণায় বদল এসেছে। জাপানের কিয়োটো বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীদের মতে, স্মৃতির পরীক্ষায় বিড়াল কুকুরের সমকক্ষ। মনোবিজ্ঞানী সাহো তাকেগি জানান, বিড়াল অতীতের সুনির্দিষ্ট অভিজ্ঞতা বা এপিসোডিক মেমোরি মনে রাখতে সক্ষম, যা তাদের মানুষের মতো চেতনার উপস্থিতিকেই নির্দেশ করে। একইসঙ্গে ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক লোরি সান্তোস উল্লেখ করেন, পূর্বে কোথায় খাবার পেয়েছিল সেই তথ্য বিড়াল খুব ভালোভাবেই স্মৃতিতে ধরে রাখতে পারে। উল্লেখ্য, ৮ আগস্ট আন্তর্জাতিক বিড়াল দিবস পালন করা হয়।
বিড়ালের প্রখর স্মৃতিশক্তির কারণে তারা ভালো ও খারাপ অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেয়। ঘরের কোথায় খাবার বা পছন্দের খেলনা লুকিয়ে রাখা হয়েছে, তা এরা ভোলে না। মনিবের কণ্ঠস্বর চিনতে পারলেও সাড়া দেওয়ার বিষয়টি এদের নিজস্ব ইচ্ছার ওপর নির্ভর করে। বন্য পূর্বপুরুষদের মতো এরা স্বাধীনভাবে ক্যাবিনেটের দরজা খোলাসহ বিভিন্ন সমস্যার সমাধান নিজেরাই বের করে। এছাড়া শিকার বা খেলনাকে নিশানা করার ক্ষেত্রে সময়, দূরত্ব ও গতির নিখুঁত হিসাব কষে এরা মানসিক দক্ষতার পরিচয় দেয়।
গবেষকদের মতে, ইট-কাঠের শহুরে পরিবেশে মানিয়ে নেওয়ার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে গিয়েই মূলত গৃহপালিত বিড়ালের মানসিক বিকাশ ত্বরান্বিত হয়। এছাড়া প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে মানুষের তৈরি কৃত্রিম প্রজনন ও জিনগত পরিবর্তনও এদের বিবর্তনে ভূমিকা রেখেছে। শৈশবে মায়ের আচরণ দেখে বেঁচে থাকার কৌশল শেখার পর বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভুল ও চেষ্টার মাধ্যমে বিড়াল নিজের বুদ্ধিমত্তাকে আরও শানিয়ে নেয়।
