ভারতে আশ্রিত আওয়ামী লীগ নেতাদের জীবন ও দেশে ফেরার প্রস্তুতি
ক্ষমতাচ্যুতির দুই বছর পর ভারতে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা শেখ হাসিনার আহ্বানে দেশে ফেরার মানসিক প্রস্তুতি নিচ্ছেন। বর্তমানে অনেকেই সেখানে ভাড়া বাসায় থেকে দিন কাটাচ্ছেন।

বাংলাদেশে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে সরকার পতনের পর শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী প্রতিবেশী দেশ ভারতে আশ্রয় নেন। সেখানে দুই বছর অতিক্রম করার পর এবার দলীয় প্রধানের আহ্বানে স্বদেশে প্রত্যাবর্তনের চিন্তাভাবনা করছেন তাঁদের অনেকেই। বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা ও তার আশপাশের এলাকায় দলটির সাবেক সংসদ সদস্য, নীতি-নির্ধারক ও অঙ্গসংগঠনের শীর্ষপর্যায়ের অন্তত ৭০ জন অবস্থান করছেন। এর বাইরে বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীসহ পুলিশের সাবেক প্রায় ৪০ জন কর্মকর্তাও সেখানে রয়েছেন।
শুরুর দিকে কেবল কলকাতাতেই প্রায় দুইশো সাবেক জনপ্রতিনিধি, সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতা এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা ছিলেন। পাশাপাশি শিলিগুড়ি ও ত্রিপুরাসহ বিভিন্ন স্থানে সহস্রাধিক মাঠপর্যায়ের কর্মী আশ্রয় নিয়েছিলেন। পরবর্তীতে তাঁদের অনেকেই নিজস্ব সক্ষমতায় ইউরোপ, আমেরিকা ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার নানা দেশে পাড়ি জমিয়েছেন। আর ভারতে অবস্থানকারীরা অনলাইনে যোগাযোগের মাধ্যমে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন।
সম্প্রতি দিল্লিতে এক সংবাদ সম্মেলনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে ফেরার অভিপ্রায় ব্যক্ত করার পর ভারতে অবস্থানরত নেতাকর্মীরাও মানসিক প্রস্তুতি নিচ্ছেন। জুলাই-আগস্টের ঘটনায় মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত সাবেক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল জানিয়েছেন, মিথ্যা মামলা ও অন্যায়ের জবাব দিতে তাঁরা দেশে ফিরে বিচারের মুখোমুখি হতে প্রস্তুত। গত সরকারের পতনের পর সেপ্টেম্বরের শুরুর দিকে ভারতে পৌঁছানো এই সাবেক মন্ত্রী স্বীকার করেন যে, অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস ও ভুল তথ্যের কারণে তাঁরা তৎকালীন পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত ছিলেন না।
ভারতে অবস্থানরত নেতাকর্মীরা সাধারণত কয়েকজন মিলে বাসা ভাড়া নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন। ঢাকার মতো সচ্ছলতা না থাকায় অনেকেই আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধুদের পাঠানো অর্থের ওপর নির্ভর করছেন এবং যাতায়াতের জন্য গণপরিবহন ব্যবহার করছেন। তাঁদের অনেকেই পরিবারের সদস্য ছাড়াই সেখানে বসবাস করছেন।
সরকার পতনের পর পরই সকলে দেশ ছাড়েননি; অনেকেই দীর্ঘদিন বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ছদ্মবেশে আত্মগোপনে ছিলেন। নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন, অভিনেত্রী রোকেয়া প্রাচী এবং সাবেক সংসদ সদস্য পঙ্কজ নাথসহ অনেকেই স্থান পরিবর্তন ও যোগাযোগের মাধ্যম গোপনে রেখে কিছুদিন দেশে অবস্থান করার পর ভারতে যান। এসব রাজনৈতিক ব্যক্তিরা জানান, দেশে ফিরে যেকোনো পরিণতির মুখোমুখি হতে তারা পরিবারসহ মানসিকভাবে প্রস্তুত রয়েছেন।
