মেমোরি চিপের ঘাটতিতে আইফোন ১৮ প্রোর উৎপাদনে বাধার আশঙ্কা

প্রযুক্তি ৮ আগস্ট ২০২৬ ৪৭০০

বিশ্বজুড়ে মেমোরি চিপের তীব্র সংকটের কারণে অ্যাপলের নতুন আইফোন ১৮ প্রোর উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। প্রসেসর তৈরি হলেও প্রয়োজনীয় ডিআরএএম না পাওয়ায় প্যাকেজিং আটকে আছে।

মেমোরি চিপের ঘাটতিতে আইফোন ১৮ প্রোর উৎপাদনে বাধার আশঙ্কা

প্রথম ভাঁজযোগ্য আইফোন এবং আইফোন ১৮ প্রো বাজারে ছাড়ার প্রস্তুতি নিলেও বৈশ্বিক মেমোরি চিপের টানাটানিতে নতুন সমস্যায় পড়েছে প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যাপল। প্রয়োজনীয় ডিআরএএম সরবরাহ নিশ্চিতের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানটি নিজেদের কারখানা সহযোগীদের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে। সরবরাহব্যবস্থায় টান পড়ার কারণে পরবর্তী প্রজন্মের এই স্মার্টফোনের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা জোরালো হচ্ছে।

সেমিকন্ডাক্টর খাতের বিশ্লেষক টিম কালপানের বরাতে জানা যায়, তাইওয়ান সেমিকন্ডাক্টর ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানির (টিএসএমসি) প্ল্যান্টে প্রায় শতকোটি ডলারের অ্যাপল প্রসেসর জমে রয়েছে। স্যামসাং, এসকে হাইনিক্স ও মাইক্রনের মতো সংস্থা থেকে মেমোরি সংগ্রহ করে অ্যাপল। তবে বিশ্ববাজারে চাহিদা মাত্রাতিরিক্ত বেড়ে যাওয়ায় পর্যাপ্ত চিপ মিলছে না, ফলে প্রসেসরগুলোর চূড়ান্ত প্যাকেজিং সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে না।

এই সংকটের মূল অনুঘটক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির ব্যাপক অগ্রগতি। বিভিন্ন এআই প্রতিষ্ঠান তাদের ডেটা সেন্টার ও সার্ভারের জন্য বিপুল পরিমাণে ডিআরএএম ক্রয় করায় বিশ্ববাজারে সরবরাহে টান পড়েছে এবং দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। আইফোন ১৮ প্রোর জন্য টিএসএমসির ২ ন্যানোমিটার প্রযুক্তিতে তৈরি এ২০ প্রো চিপের মূল অংশ প্রস্তুত হলেও মেমোরির অভাবে সেগুলো সংযোজনকারী প্রতিষ্ঠান ফক্সকন বা বিওয়াইডির কাছে পাঠানো যাচ্ছে না। এর ফলে ডিভাইসগুলোর চূড়ান্ত সমাবেশের সময় কমে আসার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

পণ্য উন্মোচনের সময়সূচিতে অ্যাপল এখনো কোনো রদবদল করেনি। তবে চিপের চরম ঘাটতি থাকলে শুরুতে ফোনটির বৈশ্বিক সরবরাহ চাহিদার তুলনায় অনেক কম হতে পারে। এতে ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মের ক্রেতাদের দীর্ঘ অপেক্ষায় থাকতে হতে পারে এবং খুচরা দোকানেও পর্যাপ্ত ডিভাইস মিলবে না।

প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী টিম কুক সম্প্রতি সরবরাহ শৃঙ্খলে বড় ধরনের সীমাবদ্ধতার কথা মেনে নিয়েছেন। মেমোরির মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পণ্যের বিক্রয়মূল্যে পড়তে পারে বলে আভাস দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যেই প্রতিষ্ঠানটি কিছু ডিভাইসের দাম বাড়িয়েছে এবং উৎপাদন তালিকায় অগ্রাধিকার পুনর্বিন্যাস করেছে। একই সময়ে বাজারে আসার গুঞ্জন থাকা অ্যাপলের প্রথম ফোল্ডেবল সংস্করণ ‘আইফোন আলট্রা’র আনুমানিক দাম ২ হাজার ডলারের বেশি হতে পারে, যা হবে ব্র্যান্ডটির সবচেয়ে ব্যয়বহুল ফোন।

আপনার প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য বিজ্ঞাপন দিন