র‍্যাব বিলুপ্ত করে এসআরবি গঠনের প্রস্তাবিত খসড়া আইনের বিভিন্ন দিক

আন্তর্জাতিক ৮ আগস্ট ২০২৬ ৪৭০০

র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন ভেঙে দিয়ে পুলিশের অধীনে নতুন ইউনিট এসআরবি গঠনের লক্ষ্যে একটি খসড়া আইন প্রস্তুত করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। প্রস্তাবিত এই আইনটি নিয়ে বর্তমানে বিভিন্ন মহল বিশ্লেষণ করছে।

র‍্যাব বিলুপ্ত করে এসআরবি গঠনের প্রস্তাবিত খসড়া আইনের বিভিন্ন দিক

র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) বিলুপ্ত করে বাংলাদেশ পুলিশের নিয়ন্ত্রণে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) নামের একটি বিশেষায়িত শাখা তৈরির প্রস্তাবিত খসড়া আইন প্রকাশ করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বর্তমানে এই প্রস্তাবনার ওপর নানা পক্ষের মতামত গ্রহণ চলছে। পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয় পরিমার্জন শেষে এটি আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হবে এবং জাতীয় সংসদে অনুমোদনের পর নতুন বাহিনীটির পথচলা শুরু হবে।

২০০৪ সালে তৎকালীন বিএনপি সরকারের আমলে র‍্যাব গঠিত হওয়ার পর থেকেই বিচারবহির্ভূত হত্যার অভিযোগ উঠতে শুরু করে। মানবাধিকার সংস্থা ‘অধিকার’-এর হিসাব অনুযায়ী, ২০০৬ সাল পর্যন্ত বাহিনীটির সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে ৩৮০ জন মারা যান। পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ সরকারের মেয়াদেও এই প্রবণতা বজায় থাকে এবং কক্সবাজারের একরামুল হক হত্যাকাণ্ডের পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র র‍্যাব ও তার কতিপয় কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে গঠিত পুলিশ প্রশাসন সংস্কার কমিটির প্রধান হাফিজ উদ্দিন আহমদ এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটি বিলোপের সুপারিশ পেশ করেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের খসড়া অনুযায়ী, এসআরবি পুলিশের অধীনে পরিচালিত হবে। এতে পুলিশ ছাড়াও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের প্রেষণে আনা যাবে। প্রয়োজনীয় শর্ত সাপেক্ষে সামরিক বাহিনীর সদস্যদেরও এতে যুক্ত করার বিধান রাখা হয়েছে। ইউনিটটি অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অবৈধ অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার, সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, মানবপাচার প্রতিরোধ, গুম-খুন ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম দমনে কাজ করবে।

নতুন আইনের খসড়ায় এসআরবিকে অপরাধের তদন্ত করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে, যা আগের বাহিনীতে ছিল না। এছাড়া ফৌজদারি কার্যবিধি মেনে কোনো স্থানে প্রবেশ, তল্লাশি, মালামাল জব্দ ও গ্রেপ্তারের ক্ষমতা রাখা হয়েছে। ব্যাটালিয়নের নিজস্ব হাজতখানা, মালখানা ও জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষ থাকবে। কোনো সদস্য শৃঙ্খলাভঙ্গ করলে মহাপরিচালক তা তদন্ত করবেন। পাশাপাশি নাগরিকদের অভিযোগ পর্যালোচনার জন্য একজন অতিরিক্ত মহাপরিচালকের নেতৃত্বে পৃথক কমিটি গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে।

মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, সেনাবাহিনী ও পুলিশের কাজের ধরণ ভিন্ন হওয়ায় সামরিক বাহিনীর সদস্যদের এই ইউনিটে রাখা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের নিরপেক্ষ তদন্তের সুযোগ না থাকা বড় ঘাটতি। তবে অপরাধবিজ্ঞান বিশ্লেষকদের মতে, র‍্যাবের তুলনায় এসআরবিকে তদন্ত করার বিশেষ এখতিয়ার প্রদান এবং সদস্যদের জবাবদিহির বিষয়টি এই খসড়ায় কিছুটা স্পষ্ট করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রাপ্ত মতামতের ভিত্তিতে খসড়াটি চূড়ান্ত করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

আপনার প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য বিজ্ঞাপন দিন