রুশ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষার মূল চ্যালেঞ্জ
গতির তীব্রতা ও খাড়া গতিপথের কারণে রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকানো ইউক্রেনের জন্য কঠিন হচ্ছে। পর্যাপ্ত প্রতিরক্ষা সামগ্রীর ঘাটতিতে রাজধানী কিয়েভসহ বিভিন্ন এলাকা নিয়মিত হামলার শিকার হচ্ছে।

রুশ বাহিনীর ছোড়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র চিহ্নিত করে ধ্বংস করতে ইউক্রেনীয় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার হাতে মাত্র কয়েক সেকেন্ড থেকে কয়েক মিনিট সময় থাকে। অত্যন্ত দ্রুত গতি ও খাড়া কোণে নিচে নেমে আসার বৈশিষ্ট্যের কারণে এসব প্রাণঘাতী অস্ত্র প্রতিরোধ করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে উঠছে। পর্যাপ্ত সুরক্ষার অভাবে কিয়েভসহ ইউক্রেনের একাধিক শহর হামলার মুখে পড়ছে। গত ৫ আগস্ট বুধবারেও কিয়েভে এক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ১৭ জন নিহত হন এবং বহু মানুষ আহত হন।
ইউক্রেনীয় বিমান প্রতিরক্ষা সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়ার ইস্কান্দার-এম, কিঞ্জাল, জিরকন কিংবা এস-৩০০ ও এস-৪০০ ব্যবস্থার ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসে তাদের কাছে মার্কিন তৈরি ‘প্যাট্রিয়ট’ ছাড়া কার্যকর কোনো বিকল্প নেই। প্যাট্রিয়টের পিএসি-৩ প্রযুক্তি সরাসরি সংঘর্ষ ঘটিয়ে ধেয়ে আসা ক্ষেপণাস্ত্র নিষ্ক্রিয় করে। তবে পুরো দেশ পাহারা দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত প্যাট্রিয়ট ব্যবস্থা ইউক্রেনের কাছে নেই। একই সাথে রাশিয়া ড্রোন, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও ভুয়া লক্ষ্যবস্তু ছুড়ে ইউক্রেনের সীমিত আকাশ নিরাপত্তাকে ব্যস্ত রাখছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের সংকট দেখা দেওয়ায় ইউক্রেনের এই সমস্যা আরও ঘনীভূত হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে আমেরিকার নিজস্ব প্যাট্রিয়ট মজুত আগের তুলনায় প্রায় ৬৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। নতুন কারখানা স্থাপন ও উৎপাদন বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হলেও চাহিদা মেটাতে দীর্ঘ সময় লাগবে। তাছাড়া ইউক্রেনে স্থানীয়ভাবে এসব অস্ত্র উৎপাদনের লাইসেন্স পাওয়া গেলেও তা বাস্তবায়নে বহু বছর লেগে যেতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে আকাশে ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করার বদলে উৎক্ষেপণের আগেই রাশিয়ার সীমানায় সেগুলো ধ্বংসের কৌশল নিচ্ছে ইউক্রেন। এজন্য রুশ ভূখণ্ডে ড্রোন পরিচালনায় স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক ব্যবহারের চেষ্টা চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি ‘ফ্রিয়া’ নামে একটি সাশ্রয়ী প্রতিরোধ প্রযুক্তি তৈরিতে ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে জোট বেঁধেছে কিয়েভ। ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্টের মতে, গত বছরের তুলনায় ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে তারা মাত্র এক-তৃতীয়াংশ আকাশ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম পেয়েছেন। তাই অবিলম্বে সরবরাহ বাড়ানোর পাশাপাশি রাশিয়ার সামরিক সরঞ্জাম তৈরির ওপর নতুন আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
