শেখ হাসিনার পতন থেকে ড. ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠন

আন্তর্জাতিক ৭ আগস্ট ২০২৬ ৪৬২৬

গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর নানা নাটকীয়তা শেষে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত হয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। তিন দিনের রাজনৈতিক ও আইনি প্রক্রিয়া পার করে তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

শেখ হাসিনার পতন থেকে ড. ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠন

ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে শেখ হাসিনা সরকারের দ্রুত পতন ঘটে, যা আন্দোলনকারীদের ভাবনার চেয়েও দ্রুত ছিল। তবে সরকার পতন হলে কী উপায়ে নতুন শাসনব্যবস্থা তৈরি হবে, তা নিয়ে বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থীরা আগে থেকেই পরিকল্পনা করছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় আগস্টের শুরুতেই নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সাথে তারা যোগাযোগ শুরু করেন।

৫ই আগস্ট দুপুরে জাতীয় বেতার ও টেলিভিশনে সেনাপ্রধান ভাষণ দেবেন—এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষমতার পরিবর্তনের বিষয়টি নিশ্চিত হয়। এর কিছু পরেই জানা যায়, গণদাবির মুখে পদত্যাগ করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সামরিক বিমানে ভারতে চলে গেছেন। ওই দিন বিকেলে সেনাসদরে আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্যান্য প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার পর জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান জানান, অন্তর্বর্তীকালীন একটি সরকার গড়ে দেশ চালানো হবে।

তবে এই নতুন প্রশাসন গঠন করতে তিন দিন সময় লাগে। এ সময়ে দেশে কার্যত কোনো সরকার ছিল না এবং সংবিধানে বিধান না থাকায় নতুন ব্যবস্থার আইনি বৈধতা ও রূপরেখা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলে। এই অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে রাষ্ট্রপতি সই করা আদেশের মাধ্যমে প্রশাসন, সামরিক বাহিনী, পুলিশ ও প্রধান আইনি দপ্তরে ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়। এদিকে ড. ইউনূসের নেতৃত্ব চূড়ান্ত হওয়ার পর শ্রম আদালতের মামলায় তার ছয় মাসের কারাদণ্ডের রায় রদ করা হয়। সেনাপ্রধান জানান, বৃহস্পতিবার রাতে বঙ্গভবনে প্রায় ৪০০ অতিথির উপস্থিতিতে নতুন সরকারের শপথ হবে। ফ্রান্স থেকে ফিরে বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর ছাত্র প্রতিনিধি, তিন বাহিনীর প্রধান ও মন্ত্রিপরিষদ সচিবের পর্যালোচনায় উপদেষ্টা তালিকা চূড়ান্ত হয়। অবশেষে বৃহস্পতিবার রাতে ড. মুহাম্মদ ইউনূস প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নেন এবং ১৬ সদস্যের উপদেষ্টা পরিষদের মধ্যে প্রথম দফায় ১৩ জন দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

আপনার প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য বিজ্ঞাপন দিন