শেখ হাসিনার পতন পরবর্তী তিন দিনের অরাজকতা ও অন্তর্বর্তী সরকার গঠন

আন্তর্জাতিক ৮ আগস্ট ২০২৬ ৩০৩৫

দুই হাজার চব্বিশ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর তিন দিনব্যাপী দেশে চরম অস্থিরতা ও সরকারহীন পরিস্থিতি বিরাজ করে। অবশেষে ৮ আগস্ট ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার শপথ গ্রহণ করে।

শেখ হাসিনার পতন পরবর্তী তিন দিনের অরাজকতা ও অন্তর্বর্তী সরকার গঠন

ছাত্র-জনতার প্রভূত গণআন্দোলনের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে ভারতে চলে যান। তাঁর ক্ষমতাচ্যুতির খবর ছড়িয়ে পড়তেই ঢাকার গণভবন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও সংসদ ভবনে হাজারো মানুষ প্রবেশ করে লুটপাট ও ভাঙচুর চালায়। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে সংঘাত ও সহিংসতা। রাজনৈতিক নেতা ও পুলিশের বাসস্থানসহ একাধিক থানায় অগ্নিসংযোগ ও হামলার ঘটনায় পুলিশ সদস্যসহ প্রায় ১৩৭ জনের প্রাণহানি ঘটে। পরদিন থেকে টানা ১৭ দিনের জারি থাকা সান্ধ্য আইন বা কারফিউ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ৫ আগস্ট বিকালেই বঙ্গভবনে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর প্রধানসহ বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধিরা বৈঠকে বসেন। সেখান থেকে বিদ্যমান দ্বাদশ জাতীয় সংসদ বিলুপ্ত করা, রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি প্রদান এবং নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে প্রধান করে একটি অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসন গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। এর ধারাবাহিকতায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দণ্ড মওকুফ করে তাঁকে সম্পূর্ণ মুক্ত করা হয় এবং সাম্প্রতিক সময়ে গ্রেপ্তার হওয়া ২২ শতাধিক আন্দোলনকারীকে জামিন দেওয়া হয়।

সরকারহীন এই সময়ে দেশে চরম আইনশৃঙ্খলা সংকট দেখা দেয়। নিরাপত্তার দাবিতে পুলিশ সদস্যরা কর্মবিরতি শুরু করলে অধিকাংশ থানা ও সড়কে তাঁদের উপস্থিতি ছিল না। ডাকাতি প্রতিহত করতে রাতে এলাকাবাসী পাহারা দেয় এবং শিক্ষার্থীরা সড়কগুলোতে যানবাহন চলাচলের শৃঙ্খলা বজায় রাখার দায়িত্ব নেয়। এই বিশৃঙ্খলার সুযোগে গাজীপুরের কাশিমপুর ও কুষ্টিয়া কারাগার ভেঙে ৩০০ জনের বেশি বন্দি পালিয়ে যায়। অন্যদিকে বেশ কয়েকজন গুমের শিকার ব্যক্তি গোপন বন্দিশালা থেকে স্বজনদের কাছে ফিরে আসেন।

আইনশৃঙ্খলা পুনরুদ্ধারে প্রশাসনে ব্যাপক রদবদল ঘটানো হয়। নতুন পুলিশ মহাপরিদর্শক নিয়োগের পাশাপাশি র‍্যাব ও সেনাপ্রধানের দপ্তরসহ একাধিক প্রশাসনিক পদে পরিবর্তন আসে। ৮ আগস্ট ফ্রান্স থেকে দেশে ফেরেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বিমানবন্দরে তাঁকে অভ্যর্থনা জানান তিন বাহিনীর প্রধান ও সমন্বয়কবৃন্দ। ড. ইউনূস দেশে ফিরেই জননিরাপত্তা রক্ষা ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনাকে সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেন। একই দিনে তিন বাহিনীর প্রধান এবং পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বৈঠকে চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে দেশের সব থানার কার্যক্রম শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

অবশেষে ৮ আগস্ট রাতে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির নিকট অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তাঁর সঙ্গে ছাত্র আন্দোলনের দুই সমন্বয়কসহ মোট ১৩ জন উপদেষ্টা শপথ নেন। ঢাকার বাইরে থাকায় সেদিন তিনজন উপদেষ্টা শপথ নিতে পারেননি। এর মাধ্যমে টানা তিন দিনের প্রশাসনিক শূন্যতা ও অরাজক পরিস্থিতির অবসান ঘটে এবং নতুন প্রশাসনের যাত্রা শুরু হয়।

আপনার প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য বিজ্ঞাপন দিন