শেখ হাসিনার পদত্যাগ ও ভারতে আশ্রয়: দিল্লির ধারণার বাইরে ঘটেছিল ৫ আগস্টের ঘটনা
গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার ঢাকা ত্যাগ ও ভারতে আশ্রয়ের পরিস্থিতি দিল্লির শীর্ষ নেতৃত্বের ধারণার বাইরে ছিল। কূটনৈতিক ও সামরিক যোগাযোগের পর সাময়িকভাবে তাকে ভারতে আসার অনুমতি দেয় দিল্লি।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ভারতের সংসদীয় অধিবেশন নিয়ে দিল্লির নীতিনির্ধারকেরা ব্যস্ত থাকলেও তাদের নজর ছিল বাংলাদেশের উদ্ভূত পরিস্থিতির দিকে। ভারতীয় গোয়েন্দাদের প্রাথমিক ধারণায় ছিল, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মারাত্মক রাজনৈতিক সংকটে পড়লেও তা কাটিয়ে উঠতে পারবেন। এমনকি এর আগের দিন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে ফোনালাপেও দেশত্যাগের কোনো সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়নি। ফলে দিনশেষে শেখ হাসিনাকে পদত্যাগ করে ভারতে আশ্রয় নিতে হবে, তা দিল্লির কাছে একেবারেই অপ্রত্যাশিত ছিল।
পরিস্থিতি দ্রুত বদলে গেলে ঢাকার পক্ষ থেকে ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রথমে ভারতীয় বিমানে করে শেখ হাসিনাকে স্থানান্তরের অনুরোধ জানালেও দিল্লির রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্ব তা প্রত্যাখ্যান করে। ভারতের পক্ষ থেকে জানানো হয়, উদ্ধারকাজে যেন ভারতের সরাসরি ভূমিকা নিয়ে কোনো প্রশ্ন না ওঠে, তাই তাকে বাংলাদেশের নিজস্ব বিমানেই ভারতে আসতে হবে। পরবর্তীতে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি সি-১৩০ সামরিক বিমানে করে তিনি দিল্লির উপকণ্ঠে গাজিয়াবাদের হিন্ডন বিমানঘাঁটিতে এসে পৌঁছান।
ঐ দিন দুপুর বারোটার পর শেখ হাসিনা পদত্যাগের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে ভারতের কাছে সাময়িক আশ্রয়ের আর্জি জানান। একই সময়ে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর পক্ষ থেকেও ভারতে নামার অনুমতি চাওয়া হলে দিল্লি তৎক্ষণাৎ সবুজ সংকেত দেয়। বিকেল হতেই খবরটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং তার চপারে ওঠার ছবিও প্রকাশ্যে আসে।
সংসদে বাংলাদেশের সহিংসতা নিয়ে বিরোধী দল সরব হতে চাইলেও পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে সরকার পক্ষ তাদের অনুরোধ করে বিষয়টি নিয়ে তাড়াহুড়ো না করতে। পরদিন ৬ আগস্ট সকালে অ্যানেক্স ভবনে সর্বদলীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শংকর, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং বিরোধীদের ব্রিফ করেন। পরে সংসদে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিবৃতি দিয়ে নিশ্চিত করেন যে কেবল সুরক্ষার তাগিদে এবং সাময়িকভাবে শেখ হাসিনাকে এই আশ্রয় দেওয়া হয়েছে।
ভারতে পৌঁছানোর পর ৫ আগস্ট সন্ধ্যা থেকেই শেখ হাসিনার প্রয়োজনীয় সুরক্ষাসংক্রান্ত তদারকির দায়িত্বে রয়েছেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল। অতীতে ১৯৭৫ পরবর্তী সময়ে প্রণব মুখার্জি যেভাবে তার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, বর্তমানে ডোভালও তেমনই অভিভাবকের ভূমিকা পালন করছেন। তবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এখনও তাদের পূর্বের অবস্থানেই অনড় রয়েছে যে, তাদের দেশে শেখ হাসিনার অবস্থান সম্পূর্ণ সাময়িক।
