শিশুদের অনলাইন গেম আসক্তি দূর করতে অভিভাবকদের করণীয়
স্মার্টফোন ও ইন্টারনেটের অবাধ ব্যবহারের ফলে তৈরি হওয়া শিশুদের গেমিং আসক্তি কাটাতে নিষেধাজ্ঞা নয়, বরং অভিভাবকীয় সচেতনতা ও ইতিবাচক জীবনযাত্রার অভ্যাস গড়ে তোলার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

বর্তমান প্রযুক্তির সময়ে খুদে সদস্য ও কিশোর-কিশোরীদের প্রধান বিনোদনের মাধ্যম হয়ে উঠেছে ইন্টারনেটভিত্তিক গেম। তবে এই অভ্যাস কখন যে ক্ষতিকর নির্ভরতায় রূপ নেয়, তা অনেক অভিভাবকই বুঝে উঠতে পারেন না। দীর্ঘ সময় ধরে ডিভাইসে মগ্ন থাকা, পড়ালেখায় মনোযোগ হারানো, মেজাজ খিটখিটে হওয়া কিংবা রাতের পর রাত জেগে থাকা গেমিংয়ে অতিরিক্ত অভ্যস্ততার স্পষ্ট লক্ষণ।
ইতিপূর্বে ব্লু হোয়েল ও মোমো চ্যালেঞ্জের মতো বিতর্কিত অনুষঙ্গ তরুণদের প্রাণঘাতী ঝুঁকির মুখে ফেলে বিশ্বব্যাপী ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। অন্যদিকে পাবজি, ফায়ার ফক্স কিংবা রোব্লক্সের মতো জনপ্রিয় গেমগুলো সরাসরি জীবন সংশয় না ঘটালেও, অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের কারণে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের মারাত্মক অবনতি ঘটাতে পারে। এমনকি একটানা গেম খেলার ফলে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়া কিংবা শারীরিক অবসাদে মৃত্যুর মতো মর্মান্তিক নজিরও রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সন্তানকে এই ক্ষতিকর চক্র থেকে বের করে আনতে হুট করে ইন্টারনেট বা মোবাইল ফোন বন্ধ করা সমীচীন নয়। এতে হিতে বিপরীত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। পরিবর্তে তাদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ আলোচনা করে একাকিত্ব বা মানসিক চাপসহ আসক্তির মূল কারণ চিহ্নিত করা জরুরি। একইসঙ্গে গেম খেলার সময় নির্দিষ্ট করার পাশাপাশি পড়াশোনা, ঘুম ও বিনোদনের মধ্যে সামঞ্জস্য রেখে দৈনন্দিন রুটিন ঠিক করে দেওয়া উচিত।
পর্দার বাইরে শিশুকে শারীরিক খেলাধুলা, সাইক্লিং, বই পড়া বা ছবি আঁকার মতো সৃজনশীল কাজে উৎসাহিত করতে হবে। এক্ষেত্রে বড়দেরও নিজেদের প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। তবে আচরণের চরম অবনতি বা বিষণ্নতার মতো গুরুতর জটিলতা দেখা দিলে অতিদ্রুত শিশু মনোরোগ বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
