সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থানায় চার আগস্টের হামলায় ১৫ পুলিশ সদস্য হত্যা ও ট্র্যাজেডি
২০২৪ সালের চার আগস্ট সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থানায় হামলায় ১৫ জন পুলিশ সদস্য নিহত হন। নজিরবিহীন ওই তাণ্ডবে লুট হওয়া অস্ত্রগুলোর মধ্যে ছয়টি আগ্নেয়াস্ত্র এখনও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

২০২৪ সালের চার আগস্ট সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থানায় তাণ্ডব চালিয়ে তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ ১৫ জন পুলিশ সদস্যকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। সংঘর্ষের দিনই থানা ভবন ও আশপাশের এলাকা থেকে ১৩ জন পুলিশ সদস্যের লাশ উদ্ধার করা হয় এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান আরও দুইজন। এমনকি এক সদস্যের লাশ বাজারের একটি গাছে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল। হামলাকারীরা থানা ভবনে অগ্নিসংযোগের পাশাপাশি ১৮টি রাইফেল, পিস্তল ও শটগান লুট করে নেয়, যার মধ্যে ছয়টি আগ্নেয়াস্ত্র এবং অধিকাংশ গুলি আজও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, সেদিন সকালে পাঁচ থেকে ছয় হাজার মিছিলকারী প্রথম দফায় থানায় এলে পুলিশের অনুরোধে ফিরে যায়। তবে দুপুর সাড়ে বারোটা থেকে একটার মধ্যে পুনরায় হাজার হাজার মানুষ জড়ো হয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। টিয়ার গ্যাস ও রাবার বুলেট ছুড়েও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে না পেরে সদস্যরা পেছনের দিকে পালিয়ে স্থানীয় বাড়িগুলোতে আশ্রয় নেন। হামলাকারীরা বাড়ি বাড়ি খুঁজে বের করে পুলিশ সদস্যদের পিটিয়ে হত্যা করে। সেদিন পুলিশের গুলিতে সরকারবিরোধী আন্দোলনের তিনজন প্রতিনিধিও নিহত হন। পানির ট্যাংকের নিচে লুকিয়ে থাকা চারজন কর্মকর্তা ও সদস্যকে সন্ধ্যায় সেনাবাহিনী উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করায়।
ডিউটিতে থাকা ৫৭ জন পুলিশ সদস্যের মধ্যে তিন নারী কনস্টেবলও হামলায় গুরুতর আহত হন। প্রাণ রক্ষার্থে এক সহকর্মী এক নারী কনস্টেবলকে অন্তঃসত্ত্বা হিসেবে পরিচয় দিলে সেই তথ্যটি ঘিরে পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার মৃত্যুর ভুল খবর ছড়িয়ে পড়ে। ওই নারী সদস্যকে বাঁচাতে চাওয়া কনস্টেবল রবিউল ইসলাম সেদিন পিটিয়ে নিহত হন। পরবর্তীতে ছয় আগস্ট চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে বেঁচে যাওয়া সদস্যরা ও নিহতদের লাশ কাফনের কাপড়ে মুড়ে লাশবাহী গাড়িতে সিরাজগঞ্জ পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছিল।
এ ঘটনায় ২৬ আগস্ট আওয়ামী লীগের চারজন নেতাসহ পাঁচ থেকে ছয় হাজার অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করা হয়। মামলার প্রধান আসামি থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি আহম্মদ মোস্তফা খান বাচ্চু কারাগারে থাকা অবস্থায় মারা যান এবং সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ বিশ্বাসসহ কয়েকজন গ্রেপ্তার হন। এনায়েতপুরের সহিংসতায় পুলিশ হত্যা সংক্রান্ত একটি এবং আন্দোলনকারীদের মৃত্যুর ঘটনায় তিনটিসহ মোট চারটি মামলা তদন্তাধীন রয়েছে। তবে তৎকালীন বিশৃঙ্খল ও চাপের মুখে পড়ে পুলিশের নির্দেশে শারীরিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত এক কর্মকর্তা এই মামলার বাদী হয়েছিলেন বলে জানা গেছে।
