সালমানের আবেদনে দিল্লি হাইকোর্টের নোটিশ: সিনেমা বিতর্ক তুঙ্গে
কৃষ্ণসার হরিণ শিকার মামলাভিত্তিক সিনেমার মুক্তি স্থগিতের আবেদনে দিল্লি হাইকোর্টের বিচারিক এখতিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন প্রযোজক। এ বিষয়ে বলিউড তারকা সালমান খানের জবাব চেয়ে নোটিশ জারি করেছেন আদালত।
১৯৯৮ সালের আলোচিত কৃষ্ণসার হরিণ শিকারের ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত ‘কালা হিরাণ: ব্যাটল ফর লিগ্যাসি’ চলচ্চিত্রটিকে কেন্দ্র করে আইনি জটিলতা নতুন মোড় নিয়েছে। ছবিটির প্রচার ও প্রদর্শন স্থগিত করতে আগে আদালতের শরণাপন্ন হয়েছিলেন বলিউড অভিনেতা সালমান খান। তবে এবার এই মামলার শুনানি করার ক্ষেত্রে দিল্লি হাইকোর্টের এলাকাগত এখতিয়ার রয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ছবিটির প্রযোজক অমিত জানি।
গত ৯ অক্টোবর শুক্রবার বিচারপতি তেজস কারিয়ার গঠিত বেঞ্চ প্রযোজকের এই নতুন আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সালমানের মতামত জানতে চেয়ে একটি নোটিশ পাঠিয়েছেন। আগামী ১৬ ডিসেম্বর বিষয়টি পুনরায় আদালতের বিবেচনায় আসবে।
প্রযোজক অমিত জানির পক্ষ থেকে আদালতে যুক্তি উপস্থাপন করা হয় যে, আবেদনকারী সালমান মুম্বাইয়ের বাসিন্দা এবং প্রযোজক নিজে থাকেন উত্তর প্রদেশের মিরাটে। সংক্ষুব্ধ কোনো পক্ষই দিল্লির আওতাধীন এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা নন কিংবা সেখানে তাদের বাণিজ্যিক কার্যক্রম নেই। কেবল দিল্লিতে সিনেমার টিজার বা প্রচারচিত্র প্রকাশিত হওয়ার অজুহাতে এই আদালত মামলাটির বিচার করার এখতিয়ার পায় না বলে প্রযোজকের আইনজীবী দাবি করেন। তাই সালমানের করা মূল আবেদনটি সরাসরি খারিজ করার আর্জি জানানো হয়।
এর আগে চলচ্চিত্রটির মুক্তি ঠেকানোর দাবিতে সালমান খান আদালতে আবেদন জানিয়েছিলেন। তার দাবি ছিল, কৃষ্ণসার হরিণ সংক্রান্ত মামলার তথ্য ও তার ব্যক্তিগত জীবনের নানা অনুসঙ্গ এতে ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে। তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট চারটি মামলার তিনটিতে তিনি অব্যাহতি পেলেও রাজস্থান হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টে আপিল বিচারাধীন। এই পরিস্থিতিতে বিষয়গুলোকে নাটকীয়ভাবে উপস্থাপন করা হলে তা নিরপেক্ষ বিচার পাওয়ার অধিকারকে প্রভাবিত করতে পারে এবং তার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হতে পারে।
প্রযোজকের আইনি আবেদনের পর এখন এই মামলাটি প্রধানত আদালতের ভৌগোলিক এখতিয়ার সংক্রান্ত বিতর্কের ওপর নির্ভর করছে। সালমানের লিখিত জবাব এবং আগামী শুনানিতেই নির্ধারিত হবে এর ভবিষ্যৎ গতিপথ।
