হরমুজ প্রণালীতে আটকে থাকা জাহাজ থেকে সামুদ্রিক পরিবেশের বড় ঝুঁকির আশঙ্কা
হরমুজ প্রণালী ও সংলগ্ন এলাকায় দীর্ঘদিন আটকে থাকা শত শত পণ্যবাহী জাহাজে ক্ষতিকর সামুদ্রিক প্রজাতি জমছে। এতে বৈশ্বিক সামুদ্রিক পরিবেশ ও জৈব-নিরাপত্তা মারাত্মক হুমকিতে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন গবেষকেরা।

দীর্ঘসময় এক জায়গায় স্থির থাকার কারণে হরমুজ প্রণালি ও পার্শ্ববর্তী সাগরে আটকে পড়া জাহাজগুলোর তলদেশে ক্ষতিকারক অণুজীবের আস্তরণ জমে উঠছে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে সামুদ্রিক জৈব-নিরাপত্তার ক্ষেত্রে গুরুতর সংকট তৈরি হতে পারে বলে গবেষকদের একটি আন্তর্জাতিক দল শঙ্কা প্রকাশ করেছে। 'বায়োলজিক্যাল ইনভেশান্স' সাময়িকীতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সামুদ্রিক জীববিজ্ঞানীরা এই ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করেছেন।
বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, জাহাজগুলো মাসের পর মাস নোঙর ফেলে দাঁড়িয়ে থাকায় সেগুলোর গায়ে ক্ষতিকারক সামুদ্রিক প্রজাতি আটকে থাকার অভূতপূর্ব সুযোগ পাচ্ছে। পরবর্তীতে এসব নৌযান বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গন্তব্যে চলাচল শুরু করলে তা বিশ্বজুড়ে নতুন প্রজাতি ছড়িয়ে দেওয়ার প্রধান বাহক হিসেবে কাজ করতে পারে। পরিসংখ্যানে জানা যায়, গত ফেব্রুয়ারি থেকে পারস্য বা আরব উপসাগরে প্রায় এক হাজার পাঁচশো এবং ওমান উপসাগরে আরও কয়েকশো জলযান স্থবির হয়ে পড়ে আছে।
সাগরে কোনো জলযান দীর্ঘদিন গতিহীন থাকলে অণুবীক্ষণিক জীব, শৈবাল ও অমেরুদণ্ডী প্রাণী তার শরীরে দ্রুত জমে ওঠে এবং সংখ্যায় বাড়ে, যাকে বলা হয় বায়োফাউলিং বা জৈব দূষণ। মেরিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সামুদ্রিক বাস্তুসংস্থানবিদ অধ্যাপক মারিও তামবুরির নেতৃত্বাধীন গবেষকদলে যুক্তরাষ্ট্র, আর্জেন্টিনা, পর্তুগাল, সৌদি আরব, নিউজিল্যান্ড, ফিনল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, কানাডা ও ইসরায়েলের বিজ্ঞানীরা যুক্ত ছিলেন। তামবুরি জানান, সমুদ্রে নতুন কোনো বস্তু বসানো হলে প্রথমে ব্যাকটেরিয়াজাত অণুজীবের পাতলা স্তর তৈরি হয়। পরবর্তীতে তার ওপর শৈবালের রেণু, বার্নাকল বা কৃমির মতো প্রাণীর লার্ভা বাসা বাঁধে এবং বাড়তে থাকে।
সাধারণত এসব উপসাগরীয় এলাকায় জাহাজগুলো বন্দর ছাড়ার আগে এক থেকে তিন দিন নোঙর করে থাকে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, ১০ দিনের বেশি সময় স্থবির থাকলে এসব প্রজাতি দ্রুত জমা হতে শুরু করে। এ কারণে ২০২৩ সালে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা দীর্ঘদিনের স্থবির জলযানগুলোকে পুনরায় যাত্রার আগে জৈব দূষণমুক্ত করার নির্দেশনা দিয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে মাসের পর মাস জাহাজগুলো দাঁড়িয়ে থাকায় তাদের গায়ে থাকা বিশেষ রং অকার্যকর হয়ে পড়ছে। বিজ্ঞানীদের মতে, দীর্ঘস্থায়ী এই পরিস্থিতির কারণে ব্যাপক জৈব দূষণের শিকার বড় বড় জাহাজগুলো পরিষ্কার করা এক বিশাল চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে।
