অতিরিক্ত তেল ব্যবহারে বাড়তে পারে খুশকির সমস্যা
মাথার ত্বকে অতিরিক্ত তেল ব্যবহারে খুশকি কমার বদলে তা আরও বাড়তে পারে। ছত্রাকজনিত খুশকি নিয়ন্ত্রণে তেল বাছাইয়ে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞরা।

মাথার ত্বক থেকে ঝরে পড়া সাদা গুঁড়োকে অনেকেই কেবল শুষ্কতার ফল বলে মনে করেন। ফলে প্রতিকার হিসেবে নিয়মিত চুলে তেল ব্যবহার করেন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, কেবল শুষ্ক স্ক্যাল্প খুশকির কারণ নয়। মূলত 'ম্যালাসেজিয়া' নামের একটি ইস্ট জাতীয় ছত্রাক ত্বকের তেল ব্যবহার করে দ্রুত বংশবৃদ্ধি ঘটায়, যা পরবর্তীতে চুলকানি ও প্রদাহের সৃষ্টি করে।
স্ক্যাল্পে অতিরিক্ত তেলের আস্তরণ জমলে ময়লা ও মৃত কোষ আটকে যায়, যা পরিষ্কার করা বেশ কঠিন। এতে স্ক্যাল্পে দুর্গন্ধ ও অস্বস্তি তৈরি হতে পারে। বহুল ব্যবহৃত নারিকেল তেল চুলের আর্দ্রতা ধরে রাখলেও ছত্রাকজনিত খুশকির ক্ষেত্রে এটি ক্ষতিকর হতে পারে। একইভাবে ক্যাস্টর অয়েল অত্যন্ত ভারী ও আঠালো হওয়ায় মাথায় জমে থেকে চুলকানি বাড়িয়ে দেয়। আবার সনাতন অভ্যাসে ব্যবহৃত সরিষার তেল সংবেদনশীল ত্বকে জ্বালাপোড়া ও লালচে ভাব আনতে পারে।
খুশকির নিরাময়ে টি ট্রির তেল বেশ কার্যকরী, কারণ এতে প্রাকৃতিক অ্যান্টিফাঙ্গাল উপাদান রয়েছে। তবে এটি কখনোই সরাসরি ব্যবহার করা যাবে না; জোজোবা বা অলিভ অয়েলের সঙ্গে দুই-তিন ফোঁটা মিশিয়ে সপ্তাহে দু-তিনবার লাগানো যেতে পারে। ব্যবহারের আগে প্যাচ টেস্ট করা প্রয়োজন। স্ক্যাল্প পরিচ্ছন্ন রাখা, মাইল্ড বা অ্যান্টি-ড্যানড্রাফ শ্যাম্পু ব্যবহার, সুষম খাদ্যাভ্যাস ও মানসিক চাপ কমানো খুশকি নিয়ন্ত্রণে বড় ভূমিকা রাখে। সমস্যা দীর্ঘদিন না কমলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।
