অবৈধ সম্পদ অর্জন: আবেদ আলীর ছেলে সিয়ামের ৪ বছরের কারাদণ্ড
জ্ঞাতআয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের দায়ে পিএসসির বিতর্কিত ড্রাইভার আবেদ আলীর ছেলে সৈয়দ সোহানুর রহমান সিয়ামকে চার বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে ঢাকার আদালত। একই সাথে ৩১ লাখ ৮১ হাজার টাকা বাজেয়াপ্ত করার আদেশ দেওয়া হয়েছে।

অসাধু উপায়ে সম্পদ তৈরির অভিযোগে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশনের (পিএসসি) সাবেক গাড়িচালক সৈয়দ আবেদ আলীর ছেলে সৈয়দ সোহানুর রহমান সিয়ামকে চার বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। ঢাকার বিভাগীয় স্পেশাল জজ বি এম তারিকুল কবীর বৃহস্পতিবার এই সাজা ঘোষণা করেন। কারাদণ্ডের পাশাপাশি আসামিকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়, যা পরিশোধে ব্যর্থ হলে অতিরিক্ত ছয় মাস সাজা ভোগ করতে হবে। একই সাথে তার আয়বহির্ভূত ৩১ লাখ ৮১ হাজার টাকা রাষ্ট্রীয় কোশাগারে বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আদালতের তথ্যমতে, রায় প্রদানের পূর্বে আসামিকে কারাগার থেকে বিচার কক্ষে নিয়ে আসা হয় এবং সিদ্ধান্ত শেষে সাজা পরোয়ানাসহ পুনরায় জেলহাজতে পাঠানো হয়। রায় ঘোষণার পর আসামিপক্ষের আইনজীবী রফিকুল ইসলাম আপিল করার শর্তে জামিনের আবেদন করলেও বিচারক তা প্রত্যাখ্যান করেন। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কৌঁসুলি দেলোয়ার জাহান রুমী জানান, সংশ্লিষ্ট আইনে সর্বনিম্ন তিন ও সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। তবে আসামির বয়স ও অবৈধ সম্পদের পরিমাণ বিবেচনায় আদালত চার বছরের সাজা নির্ধারণ করেছেন। রায়ে সন্তুষ্টির বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে এই আইনজীবী জানান যে বিষয়টি কমিশনকে অবহিত করা হবে এবং তারাই পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।
উল্লেখ্য, ছাত্রলীগ ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার সাবেক এই নেতা ২০২৪ সালের জুলাই মাসে পিএসসির প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় নাম আসায় পদ হারান। সিয়ামের বিরুদ্ধে ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত অসৎ উপায়ে সম্পদ অর্জনের অভিযোগে গত বছরের ৫ জানুয়ারি মামলা করে দুদক। তদন্ত শেষে দুদক উপসহকারী পরিচালক জাকির হোসেন ৩১ লাখ ৮১ হাজার টাকার অসংগতিপূর্ণ সম্পদের প্রমাণ পেয়ে ৩০ ডিসেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। চলতি বছরের ১৭ জুন অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়, যেখানে ১১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শেষে চূড়ান্ত রায় এলো।
