গুলশানের রেস্টহাউসে ডিএনসির অভিযান: বিপুল মদসহ গ্রেপ্তার এক, মামলা
রাজধানীর গুলশানে ‘জার্মান ক্লাব’ নামে পরিচিত এক বিনোদনকেন্দ্রে অভিযান চালিয়ে ১৭৭ লিটার বিদেশি মদ ও ৬৭ লিটার বিয়ার জব্দ করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপককে আটক ও মামলা করা হয়েছে।

রাজধানীর গুলশানের একটি বিনোদনকেন্দ্রে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অবৈধ বিদেশি মদ ও বিয়ার উদ্ধার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। বৃহস্পতিবার রাতে চালানো এই অভিযানে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপক ৪২ বছর বয়সী আতাউর রহমান শামীমকে আটক করা হয়।
ডিএনসি সূত্রের খবর অনুযায়ী, গুলশান-২ এলাকার ১০৪ নম্বর সড়কের ২৪ নম্বর ভবনে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানটি কাগজে-কলমে ‘সেভেনটি এইট রেস্টহাউজ সোসাইটি’ নামে তালিকাভুক্ত হলেও এটি ‘জার্মান ক্লাব’ হিসেবে পরিচিত। বার চালানোর প্রয়োজনীয় অনুমোদন না থাকলেও সেখানে বিদেশি মদ ও বিয়ার মজুত রেখে পাইকারি ও খুচরা বিক্রি করা হতো।
অভিযানে ২২৩টি বোতলে ১৭৭ লিটার বিদেশি মদ এবং ২০৯টি বোতল ও ক্যানে রাখা ৬৭ লিটার বিয়ার জব্দ করা হয়। ডিএনসি জানায়, গ্রেপ্তারকৃত শামীমের কাছে এসব মাদকের সপক্ষে বৈধ কাগজপত্র চাওয়া হলে তিনি তা দেখাতে পারেননি। এ ছাড়া টিকিট বিক্রি করে ডিজে পার্টির আয়োজন এবং আগতদের মাঝে অবৈধভাবে এসব মাদক সরবরাহের অভিযোগ রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে।
এই অবৈধ কারবারে ৪৫ বছর বয়সি ওমর জামিল নামের অপর এক ব্যক্তির জড়িত থাকার প্রমাণ পেয়েছে তদন্তকারীরা। অভিযানের সময় অনুপস্থিত থাকায় তাকে পলাতক দেখিয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে গুলশান থানায় মামলা করা হয়েছে। মামলায় শামীম ও পলাতক জামিল ছাড়াও কয়েকজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে আসামি করা হয়।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গুলশান জোনের সহকারী কমিশনার শাহ মোস্তফা তারিকুজ্জামান জানান, ডিএনসির পক্ষ থেকে গুলশান থানায় মামলাটি করা হয়েছে। জব্দকৃত আলামত ও পরীক্ষার নমুনা বর্তমানে ডিএনসির হেফাজতে রয়েছে এবং পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারে তদন্ত অব্যাহত আছে।
ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের অতিরিক্ত পরিচালক জাহিদ হোসেন মোল্লার পরিচালনায় পরিচালিত অভিযানে ডিএনসির প্রধান কার্যালয়, গোয়েন্দা শাখা এবং ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ মেট্রো অঞ্চলের কর্মকর্তারা অংশ নেন।
