মহাষষ্ঠীর আচারের মধ্য দিয়ে শুরু হলো ছয় দিনের শারদীয় দুর্গোৎসব

বাংলাদেশ ১৬ অক্টোবর ২০২৬ ২৯৯৮

ঢাকের বাদ্য ও চণ্ডীপাঠের মধ্য দিয়ে মহাষষ্ঠীর পূজা পালনের মাধ্যমে দেশজুড়ে শারদীয় দুর্গোৎসব শুরু হয়েছে। তিথি বাড়ায় এবার পাঁচের বদলে ছয় দিনব্যাপী এ উৎসব উদযাপিত হচ্ছে, যা বিজয়া দশমীতে শেষ হবে।

মহাষষ্ঠীর আচারের মধ্য দিয়ে শুরু হলো ছয় দিনের শারদীয় দুর্গোৎসব

শরতের আবহ ও চণ্ডীপাঠে মুখরিত হয়ে উঠেছে দেশের প্রতিটি পূজামণ্ডপ। বৃহস্পতিবার রাতে বোধনের পর শুক্রবার সকালে ষষ্ঠ্যাদি কল্পারম্ভ ও বিহিত পূজার মাধ্যমে শুরু হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। সাধারণত এ উৎসব পাঁচ দিনের হলেও তিথির ব্যাপ্তির কারণে এবার আনন্দোৎসব গড়িয়েছে ছয় দিনে। আগামী বুধবার বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে সমাপ্তি ঘটবে এ উৎসবের।

রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মণ্ডপে মণ্ডপে দেবীকে আহ্বান জানাতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে নানান ধর্মীয় আচার। ঢাকেশ্বরী মন্দিরের পুরোহিত ধর্মদাস চট্টোপাধ্যায় জানান, তিথি দীর্ঘায়িত হওয়ায় এবার দুদিন ধরে ষষ্ঠীর আনুষ্ঠানিকতা চলছে। তিনি আরও জানান, নবপত্রিকা আয়োজনের পর সপ্তমীতে প্রতিমায় প্রাণপ্রতিষ্ঠা করা হবে। এ পূজার মাধ্যমে সমাজ থেকে যাবতীয় অপশক্তি বিদায় নিয়ে শান্তি বিরাজ করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

পৌরাণিক বিশ্বাস অনুসারে, ত্রেতাযুগে সীতাকে উদ্ধারের উদ্দেশ্যে রামচন্দ্র শরৎকালে দেবীর অকালবোধন করেছিলেন, যেখান থেকে শারদীয় পূজার প্রচলন। শাস্ত্রীয় নিয়ম অনুযায়ী, এবার দেবী দুর্গার মর্ত্যে আগমন ঘটেছে ঘোড়ায়, যার বার্তা সামাজিক অস্থিরতা; আর গমনাগমন হবে নৌকায়, যা উদ্বৃত্ত শস্য ও সমৃদ্ধির বার্তা দেয়।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ জানিয়েছে, এ বছর সারা দেশে ৩৩ হাজার ৮৫১টি মণ্ডপে দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যা বিগত বছরের তুলনায় ৪৯৬টি বেশি। তবে ঢাকা মহানগরে রাজপথে পূজা আয়োজনের সুযোগ না থাকায় তিনটি কমে মোট ২৫৮টি মণ্ডপে আয়োজন করা হয়েছে। শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

উৎসবকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে নিরাপত্তা বজায় রাখতে পুলিশ, আনসার ও বিজিবিসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা মোতায়েন রয়েছেন। পাশাপাশি প্রতিটি মণ্ডপে সেচ্ছাসেবকরা দায়িত্ব পালন করছেন। কেন্দ্রীয় নজরদারির জন্য ঢাকেশ্বরী মন্দির প্রাঙ্গণে একটি নিয়ন্ত্রণকক্ষ চালু করেছে মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটি। পূজা অর্চনার পাশাপাশি মণ্ডপগুলোতে দুস্থদের বস্ত্র বিতরণ, রক্তদান ও সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার আয়োজন থাকছে।

আপনার প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য বিজ্ঞাপন দিন