আলবার্টার বিচ্ছিন্নতা প্রশ্নে গণভোটের আগে কানাডার প্রধানমন্ত্রীর ঐক্যের আহ্বান
তেলসমৃদ্ধ আলবার্টা প্রদেশের স্বাধীনতা প্রশ্নে আয়োজিত গণভোটকে কেন্দ্র করে জাতীয় ঐক্যের পক্ষে জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। এই ভোটের ফলাফলকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ মনে করছেন তিনি।

কানাডা থেকে আলবার্টার আলাদা হয়ে যাওয়ার বিষয়ে অনুষ্ঠেয় ঐতিহাসিক ভোটের ঠিক আগে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ থাকার তাগিদ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। সোমবার নির্ধারিত এই গণভোটের পরিণতি দেশের অখণ্ডতার জন্য বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে বলে তিনি সতর্ক করে দেন। ক্যালগ্যারিতে আয়োজিত অখণ্ডতাপন্থীদের এক বিশাল জনসভায় সাত হাজারের বেশি মানুষের সামনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এই সতর্কবার্তা দেন।
কানাডার প্রধানমন্ত্রী আলবার্টাবাসীদের বিচ্ছিন্নতার বিপক্ষে স্পষ্ট রায় দেওয়ার অনুরোধ জানান। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, কেবল জরিপের ওপর ভরসা না করে কেন্দ্রগুলোতে কত শতাংশ মানুষ উপস্থিত হচ্ছেন, তার ওপরই ভোটের ফল নির্ভর করবে। ইতিমধ্যে প্রদেশের প্রায় সাড়ে চার লাখ নাগরিক ডাকযোগে নিজেদের মতামত জানিয়ে দিয়েছেন। ভোটারদের সরাসরি জানতে চাওয়া হয়েছে, তারা কি দেশের সঙ্গে থাকবেন নাকি আনুষ্ঠানিকভাবে আলাদা হওয়ার আইনি পথ বেছে নেবেন।
তৃণমূলের একটি নাগরিক প্ল্যাটফর্ম প্রায় তিন লাখ স্বাক্ষর সংগ্রহ করার পর আলবার্টার প্রিমিয়ার ড্যানিয়েল স্মিথ ১৯ অক্টোবরের এই ভোটের সূচি তৈরি করেন। কনজারভেটিভ এই নেতা নিজে কানাডায় থাকার পক্ষে হলেও জনগণের সরাসরি মত নিতে এই গণভোটের আয়োজন করেন। তবে স্বাধীনতাপন্থীদের অভিযোগ, বিপুল অর্থনৈতিক অবদান রাখা সত্ত্বেও কেন্দ্রীয় সরকার আলবার্টাকে অবহেলা করেছে এবং গত এক দশকের পরিবেশনীতিতে তেল ও গ্যাস খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বিচ্ছিন্নতার পরিণতিকে ২০১৬ সালের ব্রেক্সিটের সঙ্গে তুলনা করে কার্নি সতর্ক করেন যে, এমন সিদ্ধান্ত আকস্মিক অর্থনৈতিক বিপর্যয় ডেকে আনবে। তবে আলবার্টাবাসীদের বঞ্চনার কথা স্বীকার করে নিয়ে তিনি জানান, আলবার্টার জ্বালানি শিল্পকে সহায়তায় সরকার নতুন একটি তেলের পাইপলাইন নির্মাণে দ্রুত ছাড়পত্র দিচ্ছে। এটি মার্কিন শুল্ক নীতি সামলানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে তেল রপ্তানি বাড়াতে ভূমিকা রাখবে। বর্তমানে দুই পক্ষই নিজ নিজ অবস্থানে ভোটারদের টানতে শেষ মুহূর্তের প্রচার তীব্র করেছে।
