অস্থিসন্ধি সুস্থ রাখতে প্রয়োজনীয় খাদ্যাভ্যাস ও স্বাস্থ্যচর্চার দিকনির্দেশনা
কেবল খাদ্যাভ্যাস দিয়ে বাতের রোগ সম্পূর্ণ সারানো না গেলেও ওজন নিয়ন্ত্রণ ও সঠিক পুষ্টি গ্রহণ জয়েন্টের জটিলতা কমানোর ক্ষেত্রে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখে।

সাধারণত সিঁড়ি দিয়ে ওঠার সময়, দৌড়ানো কিংবা বসার পর ওঠার ক্ষেত্রে হাঁটুতে অস্বস্তি অনুভব হলে মানুষ জয়েন্টের যত্ন নিয়ে সচেষ্ট হন। চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, কেবল খাদ্যতালিকা পরিবর্তনের মাধ্যমে আর্থ্রাইটিস পুরোপুরি দূর করা সম্ভব না হলেও অস্থিসন্ধিকে কর্মক্ষম রাখতে সুষম খাবারের বড় অবদান রয়েছে।
শরীরের অতিরিক্ত ওজন জয়েন্টের ওপর অপ্রয়োজনীয় চাপ তৈরি করে, যা অস্টিওআর্থ্রাইটিসের ঝুঁকি বাড়ায়। বিশেষ করে হাঁটু ও নিতম্বের সুস্থতার জন্য ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা দরকার, কারণ এতে জয়েন্টের ব্যথা কমে এবং চলাফেরা সহজ হয়। পাশাপাশি পেশির শক্তি বাড়ানো জরুরি, যা চাপের বিপরীতে শরীরের স্বাভাবিক সুরক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করে। এজন্য নিয়মিত শক্তিবর্ধক ব্যায়াম এবং উপযুক্ত প্রোটিন গ্রহণ করা প্রয়োজন।
দৈনন্দিন খাবারের তালিকায় দুধ, দই, ছানা, ডিম, চর্বিহীন মাংস, ডাল ও সয়াবিন রাখা উপকারী। এছাড়া কোলাজেন বৃদ্ধির জন্য পেয়ারা, আমলকী ও কমলার মতো ভিটামিন সি যুক্ত ফল এবং হাড়ের সুরক্ষায় ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া উচিত। স্যামন বা সার্ডিনের মতো ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড যুক্ত তৈলাক্ত মাছ প্রদাহজনিত বাতের উপশমে সাহায্য করে। সেই সঙ্গে পূর্ণ শস্য, বীজ ও বাদাম খাওয়া উচিত।
তবে চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা জানান, বিশেষ কোনো খাবার বা সাপ্লিমেন্ট ক্ষয়ে যাওয়া তরুণাস্থি পুনর্গঠন করতে পারে—এমন দাবির কোনো শক্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। এছাড়া অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, মিষ্টি পানীয়, ভাজাপোড়া, লাল মাংস ও মদ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, বিশেষত গাউট আক্রান্তদের। জয়েন্টে দীর্ঘমেয়াদি যন্ত্রণা, ফোলা বা শক্ত ভাব দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি। সঠিক সময়ে ফিজিওথেরাপি, ব্যায়াম ও ওষুধের সাহায্যে এই সমস্যা সামলানো যায় এবং অন্য কোনো পথ না থাকলেই কেবল অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন পড়ে।
