আন্ধারমানিক সেতুর ডেক নির্মাণ সম্পন্ন, পায়রা বন্দরে সরাসরি সড়কের পথ উন্মুক্ত
আন্ধারমানিক নদীর ওপর নির্মিত সেতুর ডেক ঢালাই সম্পন্ন হওয়ার মধ্য দিয়ে পায়রা সমুদ্রবন্দরের সঙ্গে সারাদেশের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ বাস্তবায়নের পথ সহজ হয়ে উঠেছে। এতে দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনৈতিক কার্যক্রমে গতি আসবে।

পায়রা বন্দরের প্রথম টার্মিনাল প্রকল্পের অধীনে আন্ধারমানিক নদীর ওপর নির্মাণাধীন সেতুর ডেক তৈরির কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়েছে। গত ১৫ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সেতুর শেষ অংশের কংক্রিট ঢালাই সম্পন্ন করার মাধ্যমে এই অগ্রগতি অর্জিত হয়। এর ফলে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে পায়রা বন্দরের সরাসরি সড়কপথ চালুর প্রক্রিয়া আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল।
সেতুটির কাজ পূর্ণাঙ্গভাবে শেষ হলে রাবনাবাদ নদীর তীরের চরিপাড়ায় অবস্থিত প্রথম টার্মিনাল থেকে খালাস করা পণ্য সহজেই সরাসরি সড়কপথে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক কেন্দ্রে পাঠানো যাবে। এতে পরিবহন ব্যয় ও সময় কমার পাশাপাশি আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। ইতোমধ্যে পায়রা বন্দরভিত্তিক শিল্পাঞ্চলে কলকারখানা গড়তে দেশি-বিদেশি ব্যবসায়ীরা আগ্রহ দেখিয়েছেন। সেখানে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার করে পরিবেশবান্ধব অর্থনৈতিক কার্যক্রম বিস্তারের পরিকল্পনা রয়েছে।
সম্প্রতি এই বন্দরের অবকাঠামোগত কার্যক্রমে আরও একটি অগ্রগতি ঘটে। গত ৭ অক্টোবর সকালে চীনের পতাকাবাহী ‘ফান ঝৌ-৬’ নামের একটি জাহাজ সরাসরি প্রথম টার্মিনালে ভেড়ে। সেখান থেকে পণ্য খালাসের পাঁচটি নতুন যন্ত্রপাতি নামানো হয়। বিগত দুই বছরের মধ্যে এবারই প্রথম সেখানে বড় ধরনের পরিচালন সরঞ্জাম পৌঁছাল।
এক্সট্রাডোজড প্রযুক্তিতে নির্মিত এই সেতুটির দৈর্ঘ্য ১ হাজার ১৮০ মিটার এবং এর টাওয়ারের উচ্চতা ৫৮.৫ মিটার। সেতুটির মূল ডেক ২৩.২ মিটার ও সংযোগ ডেক ২১.২ মিটার চওড়া। চার লেনের এই অবকাঠামো নির্মাণে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও নৌযান চলাচল ব্যাহত না হওয়ার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এ কারণে পুরো সেতুটি মাত্র দুটি প্রধান স্তম্ভের ওপর বসানো হয়েছে।
২০২৪ সালের ১ ফেব্রুয়ারি পাইল স্থাপনের মধ্য দিয়ে এর কাজ শুরু হয়েছিল। চীনের সিসিইসিসি ও সিআরবিজি যৌথভাবে সেতুটির নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করছে এবং একটি কোরীয় প্রতিষ্ঠান তদারকির দায়িত্বে রয়েছে। রাতের বেলা আলোকসজ্জায় সেতুটিতে জাতীয় ফুল শাপলার আকৃতি ফুটিয়ে তোলা হবে। প্রকল্পটির মাধ্যমে দক্ষিণাঞ্চলের পরিবহন অবকাঠামো ও সার্বিক অর্থনীতিতে নতুন গতির সঞ্চার হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
