আবেগ অপ্রকাশ রাখা পুরুষদের প্রতি নারীদের আকর্ষণের মনস্তাত্ত্বিক কারণ

লাইফস্টাইল ৮ আগস্ট ২০২৬ ৪৭০০

অনেক নারী কম কথা বলা বা গম্ভীর পুরুষদের প্রতি আকৃষ্ট হন। কৌতূহল, শৈশবের পারিবারিক পরিবেশ এবং গণমাধ্যমের প্রভাবসহ বেশ কিছু মনস্তাত্ত্বিক উপাদান এর পেছনে ভূমিকা রাখে।

আবেগ অপ্রকাশ রাখা পুরুষদের প্রতি নারীদের আকর্ষণের মনস্তাত্ত্বিক কারণ

ভালোবাসার মানুষের ক্ষেত্রে সকলে যে চঞ্চল বা সবসময় অনুভূতি প্রকাশ করা সঙ্গী পছন্দ করেন, তা নয়। অনেক সময় নীরব, কম কথা বলা বা গম্ভীর চরিত্রের পুরুষদের প্রতিও অনেকে বিশেষ টান অনুভব করেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের আকর্ষণের পেছনে মূলত বেশ কিছু মনস্তাত্ত্বিক বিষয় কাজ করে।

প্রথমত, সহজে অনুভূতি প্রকাশ না করা মানুষের প্রতি এক ধরণের কৌতূহল তৈরি হয়। যা পাওয়া বা বোঝা কঠিন, তার প্রতি মানুষের আগ্রহ বেশি থাকে। সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ এসথার পেরেলে উল্লেখ করেছেন যে, রহস্যময়তা অনেক সময় আকর্ষণকে দীর্ঘস্থায়ী করতে ভূমিকা রাখে। এছাড়া সংযত আচরণকে অনেকে আত্মবিশ্বাস ও মানসিক শক্তির প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করেন।

দ্বিতীয়ত, অপরকে বদলে দেওয়ার ইচ্ছাও এর একটি বড় কারণ। অনেকে মনে করেন, নিজের ভালোবাসা ও যত্ন দিয়ে একজন অনুভূতিহীন মানুষকে স্বাভাবিক করে তোলা সম্ভব। আবার শৈশবের পারিবারিক পরিবেশের প্রভাবে অনেকে প্রাপ্তবয়স্ক বয়সেও আবেগগতভাবে দূরবর্তী মানুষের প্রতি আকৃষ্ট হন। মনোবিজ্ঞানী ড. স্যু জনসন জানান, ছোটবেলার সংযুক্তির অভিজ্ঞতা মানুষের পরিণত বয়সের সম্পর্ককে প্রভাবিত করে। এর সঙ্গে যুক্ত হয় চলচ্চিত্র ও উপন্যাসের গল্প, যা বাস্তব জীবনের মানসিকতায় প্রভাব ফেলে।

তবে কম কথা বললেই কেউ অনুভূতিহীন হন না; অনেকে কথার বদলে কাজের মাধ্যমে ভালোবাসা প্রকাশ করেন। অন্যদিকে, ক্রমাগত মানসিক দূরত্ব তৈরি করলে সম্পর্কে ফাটল ধরতে পারে। গবেষক জন গটম্যানের মতে, একটি সফল সম্পর্কের মূল ভিত্তি হলো পারস্পরিক অনুভূতির প্রতি যথাযথ সাড়া দেওয়া। তাই সঙ্গী কতটা গম্ভীর বা শান্ত, তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো প্রয়োজনের মুহূর্তে তিনি শ্রদ্ধাশীল ও বিশ্বস্ত কি না।

আপনার প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য বিজ্ঞাপন দিন