ইউক্রেন সংঘাত নিরসনে সমঝতার আশা দেখছেন ভ্লাদিমির পুতিন
ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধ সমাপ্তির লক্ষ্যে শান্তি চুক্তির সুযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। কিয়েভ থেকেও কূটনৈতিক তৎপরতা বৃদ্ধির মাধ্যমে শান্তির নতুন গতিশীলতার ইঙ্গিত এসেছে।

রাশিয়ার সুদূর পূর্বাঞ্চলে আয়োজিত এক অর্থনৈতিক সম্মেলনে বক্তৃতা দেওয়ার সময় প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন জানান, ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে একটি স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব। শান্তি প্রতিষ্ঠা প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ও চীনসহ একাধিক রাষ্ট্র সহায়তা করতে ইচ্ছুক বলে তিনি উল্লেখ করেন। রুশ প্রেসিডেন্টের মতে, অন্য দেশের সমর্থন গ্রহণযোগ্য হলেও সংঘাতের চূড়ান্ত সমাধান রাশিয়া ও ইউক্রেনকেই বের করতে হবে।
এদিকে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা সাংবাদিকদের জানান, বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উদ্যোগ পুনরুজ্জীবিত হওয়ায় শান্তি প্রক্রিয়ায় নতুন গতি আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে এই বিষয়ে স্পষ্ট কোনো বিবরণ না দিয়ে তিনি সংবাদমাধ্যমকে পরিস্থিতির ওপর নজর রাখতে অনুরোধ করেছেন।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপ মহাদেশের সবচেয়ে ভয়াবহ এই লড়াই সাড়ে চার বছর ধরে চলছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় দুই দেশ শেষবার আলোচনায় বসেছিল। এর পর ইরান যুদ্ধ কেন্দ্র করে ওয়াশিংটন ব্যস্ত হয়ে পড়লে উভয় দেশ একে অপরের ভূখণ্ড ও সমুদ্রসীমানায় হামলা জোরদার করে। বাণিজ্যিক জাহাজ ও বন্দরে হামলা চলায় বিশ্বজুড়ে খাদ্যশস্যের দামও বেড়ে যায়।
তবে আশার কথা বললেও কোনো পক্ষই অগ্রগতির সুনির্দিষ্ট কারণ ব্যাখ্যা করেনি। উপরন্তু, ইউক্রেনের সাম্প্রতিক কিছু পদক্ষেপকে আলোচনার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধক হিসেবে তুলে ধরেছেন পুতিন। বেসামরিক পণ্যবাহী নৌযানে হামলা ও বিমান চলাচলে হুমকির বিষয়টিকে তিনি রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদ হিসেবে আখ্যা দিয়ে দ্বিপক্ষীয় আলোচনাকে এটি জটিল করে তুলেছে বলে মন্তব্য করেন।
