ইরানে শক্তিশালী অ-পারমাণবিক বোমা ব্যবহারের পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের

বাংলাদেশ ১৬ অক্টোবর ২০২৬ ২৮৮৭

ইরানের পারমাণবিক ও জ্বালানি অবকাঠামোতে ‘মাদার অফ অল বোম্বস’ ব্যবহারের সামরিক পরিকল্পনা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে বা পরে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশ পেলেই হামলা চালানো হতে পারে।

ইরানে শক্তিশালী অ-পারমাণবিক বোমা ব্যবহারের পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের

ইরানের পরমাণু স্থাপনা এবং বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাতে নতুন করে হামলা চালানোর কৌশল নির্ধারণ করেছে আমেরিকার প্রতিরক্ষা বিভাগ। এই প্রক্রিয়ায় মার্কিন বাহিনীর হাতে থাকা সবচেয়ে ক্ষমতাধর অ-পারমাণবিক অস্ত্র 'জিবিইউ-৪৩/বি ম্যাসিভ অর্ডন্যান্স এয়ার ব্লাস্ট' বা 'মাদার অব অল বোম্বস' প্রয়োগের প্রস্তাবও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। দেশের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগমুহূর্তে কিংবা পরবর্তীতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চূড়ান্ত সবুজ সংকেত দিলে এ অভিযান পরিচালিত হতে পারে বলে প্রশাসনের ভেতরের একাধিক কর্মকর্তা ইঙ্গিত দিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তালিকায় থাকা সর্ববৃহৎ এই চিরাচরিত বোমা যদি মধ্যপ্রাচ্যের দেশটির বিরুদ্ধে প্রয়োগ করা হয়, তবে তা সংঘাতের মাত্রা বহুগুণ বাড়িয়ে তুলবে। অবশ্য ট্রাম্পের প্রত্যাশিত কৌশলগত সাফল্য লাভ কিংবা যুদ্ধের গতিপ্রকৃতি পাল্টে দিতে এই সমরাস্ত্র কতটা কার্যকর প্রভাব ফেলবে, সে বিষয়ে মার্কিন সশস্ত্র বাহিনীর কর্মকর্তাদের নিজেদের মধ্যেই গভীর সংশয় বিদ্যমান।

টানা ছয় মাসের বেশি সময় ধরে আমেরিকা বোমাবর্ষণ চালিয়ে আসলেও কোনো সমঝোতার সুযোগ তৈরি হয়নি। এই দীর্ঘমেয়াদী সংঘাত নিয়ে মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দেওয়ায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বর্তমানে রাজনৈতিক চাপে আছেন। বিশেষ করে নির্বাচন ঘনিয়ে আসায় ভোটারদের সম্ভাব্য ক্ষোভ নিয়ে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান পার্টির নীতি নির্ধারকরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

সেনাবাহিনী ইরানের নতুন লক্ষ্যবস্তু সাজিয়ে প্রেসিডেন্টের সামনে তুলে ধরলেও, লড়াই পুরোপুরি বন্ধের কার্যকর কৌশল হোয়াইট হাউসের রয়েছে কি না—সে প্রশ্ন তুলছেন অনেক সামরিক কর্মকর্তা। তাদের মতে, সংঘাত থামানোর সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে প্রেসিডেন্টের ইচ্ছার ওপর নির্ভরশীল। অন্যদিকে, অবিলম্বে সৈন্য ফিরিয়ে এনে যুদ্ধ শেষের পরামর্শ দেওয়া সহযোগীদের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প। তার মতে, সুস্পষ্ট সাফল্য ছাড়া সেনা সরালে তা আমেরিকার পরাজয় হিসেবে গণ্য হবে। যদিও প্রকাশ্যে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে নতুন পদক্ষেপ না নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, তবুও ট্রাম্প শেষ পর্যন্ত সেই অবস্থানে বহাল থাকবেন কি না, তা নিয়ে তাঁর ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টারাও নিশ্চিত হতে পারছেন না।

আপনার প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য বিজ্ঞাপন দিন